কোশ (Cell)

💠 কোশ : অর্ধভেদ্য পর্দা বেষ্টিত , প্রােটোপ্লাজম সমন্বিত , স্বপ্রজননশীল , জীবদেহের গঠনগত এবং কার্যগত একককে কোশ বলে । যেমন — ডিম ।

💠 আবিষ্কারক : বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ( 1665 ) সর্বপ্রথম কর্কে কোশ পর্যবেক্ষণ করেন । যদিও প্রকৃতপক্ষে তিনি কোশপ্রাচীর পর্যবেক্ষণ করেন ।

💠 বিজ্ঞানী লিউয়েন হক ( 1672 ) সর্বপ্রথম জীবিত কোশ রূপে ব্যাকটেরিয়া পর্যবেক্ষণ করেন ।

💠 প্রকারভেদ : প্রােটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াসের সংগঠনের উপর ভিত্তি করে কোশ প্রধানত তিন প্রকার—
( i ) প্রােক্যারিওটিক কোশ ,
( ii ) মেসােক্যারিওটিক কোশ ,
( iii ) ইউক্যারিওটিক কোশ ।

⏹️ কয়েকটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে যদি এদের তুলনা করা হয় : –

💠 বিষয় : নিউক্লিয়াস
প্রােক্যারিওটিক কোশ : আদৰ্শ নিউক্লিয়াস থাকে না l
মেসােক্যারিওটিক কোশ : আদৰ্শ নিউক্লিয়াস থাকে l
ইউক্যারিওটিক কোশ : আদৰ্শ নিউক্লিয়াস থাকে l

💠 বিষয় : ক্রোমােজোম
প্রােক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় না ।
মেসােক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হলেও আম্লিক প্রােটিনযুক্ত ।
ইউক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় এবং ক্ষারীয় প্রােটিন যুক্ত ।

💠 বিষয় : সেন্ট্রোমিয়ার
প্রােক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় না ।
মেসােক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় না ।
ইউক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় ।

💠 বিষয় : কোশ বিভাজন
প্রােক্যারিওটিক কোশ : অ্যামাইটোসিস ।
মেসােক্যারিওটিক কোশ :অ্যামাইটোসিস
ইউক্যারিওটিক কোশ : মাইটোসিস বা মিয়ােসিস বা উভয় ।

💠 বিষয় : স্পিন্ডল গঠন
প্রােক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় না ।
মেসােক্যারিওটিক কোশ :গঠিত হয় না ।
ইউক্যারিওটিক কোশ : গঠিত হয় ।

💠 বিষয় : রাইবােজোম
প্রােক্যারিওটিক কোশ : 70s প্রকৃতির ।
মেসােক্যারিওটিক কোশ : 80s প্রকৃতির ।
ইউক্যারিওটিক কোশ : 70s এবং 80s উভয় প্রকৃতির ।

💠 জীবদেহের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোশ প্রধানত দুই প্রকার — ( i ) উদ্ভিদ কোশ
( ii ) প্রাণী কোশ l কয়েকটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এদের তুলনা করা হলো :

💠 বিষয় : কোশ প্রাচীর
উদ্ভিদ কোশ : থাকে l প্রধানত সেলুলোজ নির্মিত l
প্রাণী কোশ : থাকে না l

💠 বিষয় : সেন্ট্রোজোম
উদ্ভিদ কোশ :থাকে না ।
প্রাণী কোশ : থাকে l

💠 বিষয় : ক্লোরােপ্লাস্ট
উদ্ভিদ কোশ : থাকে ।
প্রাণী কোশ : থাকে না ।

💠 বিষয় : লাইসােজোম
উদ্ভিদ কোশ : থাকে না ।
থাকে ।

💠 বিষয় : মাইক্রোভিলাই
উদ্ভিদ কোশ : থাকে না ।
প্রাণী কোশ : থাকে ।

💠 বিষয় : পিনােসাইটিক গহ্বর
উদ্ভিদ কোশ : গঠিত হয় না ।
প্রাণী কোশ : গঠিত হয় l

💠 বিষয় : ভ্যাকুওল
উদ্ভিদ কোশ : পরিণত কোশে সংখ্যায় অল্প এবং আকারে বড় হয় ।
প্রাণী কোশ : পরিণত কোশে সংখ্যায় তুলনামূলক বেশী এবং আকারে অনেক ক্ষুদ্র হয় ।

💠 বিষয় : কোশান্তর সংযােগ
উদ্ভিদ কোশ : সাধারণত প্লাজমােডেসমাটা কোশান্তর সংযােগ সাধন করে ।
প্রাণী কোশ : ডেসমমাজোম , টাইট জাংশন , অ্যাডহেরেন জাংশন , গ্যাপজাংশন ইত্যাদি কোশান্তর সংযােগ সাধন করে l

💠 কোশপ্রাচীর ( Cell Wall ) : প্রায় সমস্ত উদ্ভিদ কোশের প্লাজমাপর্দাকে ঘিরে সেলুলােজ ও অন্যান্য উপাদান সহযােগে গঠিত নির্জীব , পুরু , দৃঢ় , ভেদ্য , স্থিতিস্থাপক আবরণকে কোশপ্রাচীর বলে ।

💠 আবিষ্কার : বিজ্ঞানী রবার্টসন সর্বপ্রথম কোশে কোশপ্রাচীর আবিষ্কার করেন ।

💠 কাজ : ( i ) কোশকে নির্দিষ্ট আকার আকৃতি প্রদান করে ।
( ii ) কোশের আভ্যন্তরীণ উপাদানগুলিকে বাইরের আঘাত ও জীবাণুর থেকে রক্ষা করে । ( iii ) পার্শ্বীয় কোশের মধ্যে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে ।

💠গঠন : একটি আদর্শ কোশপ্রাচীর প্রধানতঃ মধ্যপর্দা , প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর নিয়ে গঠিত ।

💠 উৎপত্তি : কোশ বিভাজনের টেলােফেজ দশা থেকে শুরু করে সাইটোকাইনেসিস দশায় দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের মাঝে কোশপ্রাচীর গঠিত হয় ।

💠 রাসায়নিক উপাদান : মধ্যপর্দা : Ca এবং Mg পেকটেট ।
প্রাথমিক প্রাচীর : সেলুলােজ , হেমিসেলুলােজ । গৌণ প্রাচীর : সেলুলােজ , হেমিসেলুলােজ , লিগনিন , কাইটিন , সুবেরিন , ওয়াক্স , মিউসিলেজ , উৎসেচক , জল , খনিজ পদার্থ ইত্যাদি ।

💠 প্লাজমােডেসমাটা ( Plasmodesmata ): উদ্ভিদকোশে কুপজোড়ার মধ্য দিয়ে যে সাইটোপ্লাজমীয় সূত্রাকার গঠন দুইটি পার্শ্ববর্তী কোশের মধ্যে সংযােগ স্থাপন করে তাদের প্লাজমােডেসমাটা বলে ।

💠 কোশপর্দা বা প্লাজমাপর্দা : প্রত্যেক সজীব কোশের প্রােটপ্লাজমকে ঘিরে যে সূক্ষ্ম ( 70A – 100A ) , স্থিতিস্থাপক , অর্ধভেদ্য বা প্রভেদক ভেদ্য , লিপােপ্রােটিন নির্মিত ত্রিস্তরীয় সজীব আবরণ থাকে তাকে কোশপর্দা বা প্লাজমা পর্দা বলে ।

💠 আবিষ্কার : 🔷 বিজ্ঞানী স্বয়ান ( 1838 ) সর্বপ্রথম কোশপর্দা আবিষ্কার করেন ।

💠 নামকরণ : 🔷 বিজ্ঞানী নেগেলি এবং ক্রামার ( 1855 ) ‘ সেল মেমব্রেন ( cell membrane ) ‘ কথাটি প্রবর্তন করেন ।

🔷 বিজ্ঞানী প্লোত্র ( 1931 ) কোশপর্দাকে সর্বপ্রথম প্লাজমালেম্মা ( Plasmalemma ) ‘ নামে অভিহিত করেন ।

💠 কাজ : ( i ) কোশকে নির্দিষ্ট আকার প্রদান করা ।
( ii ) প্রােটোপ্লাজমকে পৃথক করে রাখে এবং রক্ষণাত্মক কাজ করে ।
( iii ) কোশ অঙ্গানুর পর্দা গঠন করে ।
( iv ) পিনােসাইটোসিস ও ফ্যাগােসাইটোসিস প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
( v ) বিভিন্ন উপাদানের পরিবহনকে নিয়ন্ত্রণ করে ( vi ) কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে ।

💠 রাসায়নিক উপাদান :
( i ) লিপিড — ফসফোলিপিড এবং স্ফিংগােলিপিড
( ii ) প্রােটিন — বাহক প্রােটিন , গঠনগত প্রােটিন এবং উৎসেচক প্রােটিন ।
( iii ) শর্করা — গ্লাইকোপ্রােটিন এবং গ্লাইকোলিপিড ।

💠 প্রকারভেদ : ভেদ্যতার উপর ভিত্তি করে কোশপর্দা চার প্রকার — অভেদ্যপর্দা , অর্ধভেদ্য প্লাজমাপর্দা , পছন্দমাফিক ভেদ্যপর্দা ,
( i ) অভেদ্যপর্দা — যে প্লাজমা পর্দার মাধ্যমে গ্যাসীয় অণু ব্যতীত কোনাে কঠিন বা তরল পদার্থের অণু চলাচল করতে পারে তাকে অভেদ্য প্লাজমা পর্দা বলে । যেমন — মাছের অনিষিক্ত ডিম্বাণুর প্লাজমাপর্দা ।
( ii ) অর্ধভেদ্য প্লাজমাপর্দা — যে পর্দার মাধ্যমে কেবলমাত্র দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব পারে না , তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে l যেমন — মাছের পটকা l
( iii ) পছন্দমাফিক বা বিভেদমূলক ভেদ্যপর্দা — যে সকল প্লাজমা পর্দার মাধ্যমে অল্প পরিমাণে দ্রাবের অণু চলাচল করতে পারে বা যে সকল প্লাজমা পর্দা দিয়ে পছন্দমাফিক আয়ন বা ক্ষুদ্র অণুর চলাচল ঘটে , তাকে পছন্দমাফিক ভেদ্যপর্দা বা বিভেদমূলক ভেদ্যপর্দা বা প্রভেদক ভেদ্যপর্দা বলে l যেমন — সজীব কোশের কোশপর্দা l
( iv ) ডায়ালাইজিং প্লাজমাপর্দা — যে প্লাজমাপর্দার মাধ্যমে ঔদস্থৈতিক চাপের দ্বারা বলপূর্বক দ্রাব এবং দ্রাবকের অণুগুলি চলাচল করে , তাকে ডায়ালাইজিং প্লাজমা পর্দা বলে । যেমন — এন্ডােথেলিয়াম কোশের ভিত্তি পর্দা ।

💠 নিউক্লিয়াস ( Nucleus ) : ইউক্যারিওটিক কোশের প্রােটোপ্লাজমে সর্বাপেক্ষা ঘন , প্রায় গােলাকার , যে দ্বি একক পর্দাবেষ্ঠিত কোশীয় অঙ্গাণু বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে , তাকে নিউক্লিয়াস বলে ।

💠 আবিস্কার : বিজ্ঞানী অ্যানটন ভ্যান লিউয়েনহক এবং ফনট্যানা সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস পর্যবেক্ষণ করেন ।

💠 নামকরণ : বিজ্ঞানী রবার্ট ব্রাউন ( 1831 ) নিউক্লিয়াস নামকরণ করেন ।

💠 গঠন : একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস চারটি অংশ নিয়ে গঠিত ।
( i ) নিউক্লিও পর্দা ,
( ii ) নিউক্লিওপ্লাজম ,
( iii ) নিউক্লিওলাস ,
( iv ) নিউক্লিওজালক বা ক্রোমাটিন তন্তু ।

💠 কাজ :
( i ) নিউক্লিয়াসের মধ্যে বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমাটিন থাকে বা জীবের বংশগত , বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে ।
( ii ) বিভিন্ন প্রকার ভ্যারিয়েশন ও পরিব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে ।
( iii ) ইহা RNA সৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

💠 মাইটোকনড্রিয়া ( Mitochondria ) : সজীব ইউক্যারিওটিক কোশের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তাকারে ছড়িয়ে থাকা লিপােসপ্রাটিন নির্মিত দ্বিপর্দাযুক্ত যে গােলাকার , ডিম্বাকার বা সূত্রাকার কোশ অঙ্গাণু কোশের প্রয়ােজনীয় শক্তি উৎপন্ন করে তাকে মাইটোকনড্রিয়া বলে ।

💠 আবিষ্কার : বিজ্ঞানী কলিকার ( 1880 ) প্রথম মাইটোকনড্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন ।

💠 নামকরণ : সি . বেন্ডা ( 1897 ) সর্বপ্রথম ‘ মাইটোকনড্রিয়া ’ নামকরণ করেন ।

💠 রাসায়নিক প্রকৃতি : 60 % -70 % প্রােটিন , 25 % -35 % লিপিড , 5 % -7 % RNA , DNA এবং ম্যাঙ্গানীজ , ক্যালসিয়াম , ফসফেট পাওয়া যায় l

💠 কাজ : ( i ) শ্বসনের ক্রেবস চক্র সংঘটিত হওয়ায় এখানে ATP উৎপন্ন হয় এবং সঞ্জিত হয় । তাই ইহাকে কোশের শক্তিঘর বলে ।
( ii ) মাইটোকনড্রিয়ার গহ্বরে অবস্থিত উৎসেচক ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যামাইনাে অ্যাসিড সংশ্লেষকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

💠 প্লাস্টিড ( Plastid ) : দ্বি একক পর্দাযুক্ত বিক্ষিপ্তাকারে উন্নত উদ্ভিদ কোশের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত গােলাকার , ডিম্বাকার , নলাকার যে কোশীয় অঙ্গানু সালােকসংশ্লেষ , বর্ণ নিয়ন্ত্রণ , খাদ্য সঞ্চয়ী অঙ্গরূপে কাজ করে তাকে প্লাসটিড বলে ।

💠 আবিষ্কার : ই . হেকল ( 1866 ) সর্বপ্রথম প্লাসটিড আবিষ্কার ও নামকরণ করেন ।

💠 প্রকার : সিম্পার ( 1883 ) রং এর উপর ভিত্তি করে প্লাসটিডকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন— ( i ) লিউকোপ্লাসটিড , ( ii ) ক্রোমােগ্লাসটিড , ( iii ) ক্লোরােপ্লাসটিড

💠 কাজ 🙁 i ) লিউকোপ্লাসটিড বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সঞ্চয় করে ইহা নিম্নোক্ত প্রকারের হয়—

🔷 অ্যালিউরােপ্লাস্ট — প্রােটিন সঞ্চয় করে ।

💠 এলিওপ্লাস্ট – ফ্যাট সঞ্চয় করে ।

💠 অ্যামাইলােপ্লাস্ট — স্টার্চ সঞ্চয় করে ।

( ii ) ক্রোমােগ্লাসটিড বিভিন্ন প্রকার রঞ্জক ধারণ করে ফুল , ফল ও অন্যান্য অঙ্গের বর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে পরাগযােগ এবং বীজ বিস্তারে সাহায্য করে । ইহা নিম্নোক্ত প্রকারের হয়—

🔷 রােডােপ্লাস্ট — ফাইকোএরিথ্রিন নামক লাল রঞ্জক ধারণ করে ।

🔷 ফিয়ােপ্লাস্ট — ফিউকোজ্যান্থিন নামক হলুদ বাদামী রঞ্জক ধারণ করে ।

🔷 জ্যাত্মােপ্লাস্ট জ্যান্থিন নামক হলুদ বর্ণের রঞ্জক ধারণ করে ।

🔷 ক্যারােটিননাপ্লাস্ট— ক্যারােটিনয়েড নামক কমলা রঞ্জক ধারণ করে ।

( iii ) ক্লোরােপ্লাস্ট সালােকসংশ্লেষকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

💠 কোশ কথাটি Cellula থেকে এসেছে। যার অর্থ ছোট উপাদান।

💠 Corti (1939) প্রথম প্রোটোপ্লাজম পর্যবেক্ষণ করেন। বিজ্ঞানী পারকিনজি(1772) ইহার নামকরণ করেন।

💠 উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ম্যালথিয়াস স্লেইডেন এবং প্রাণিবিজ্ঞানী থিওডোর স্বোয়ান (1839) সর্বপ্রথম কোশ তত্ত্ব প্রবর্তন করেন।

💠 স্লেইডেন এবং স্বোয়ান যে পত্রিকায় কোশতত্ত্ব প্রথম প্রবর্তন করেন তার নাম ছিল — ‘ Microscope Investigation on the similarity of Structure and growth in animals and plants’

💠 মানুষের দেহে প্রায় 260 ধরনের কোশ দেখা যায়।

💠 কোশতত্ত্ব অনুযায়ী প্রতিটি সজীব জীব এক বা একাধিক কোশ দ্বারা গঠিত। যা পর্দাঘেরা একটি নিউক্লিয়াস ও প্রোটোপ্লাজম দ্বারা গঠিত।

💠 ‘Omnis Cellula e Cellula’ শব্দের অর্থ একটি কোশ পূর্ববর্তী কোশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে । ইহা রুডলফ ভিরচাও ( Rudlof Virchow ) প্রবর্তন করেন ।

💠 ‘ Cell doctrine ‘ অনুযায়ী কোশ হল জীবদেহের গঠনগত ও কার্যগত এক ।

💠 PPLO ( প্লিউরাে নিউমােনিয়া লাইক অরগানিজম ) হল সবচেয়ে উদ্ভিদের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কোশ l

💠 উদ্ভিদের সবচেয়ে বৃহৎ কোশ হল Ramie ( Bochameria nivea ) উদ্ভিদের তন্তু ।

💠 বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত উদ্ভিদ কোশকে সিনােসাইট বলে l ( Vaucheria )

💠 বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণিকোশকে সিনসিটিয়াম বলে ( পেশী কোশ ) ।

💠 টেলােফেজ দশার শেষের দিকে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসের মাঝে প্রথম প্রথম কোশপাত ( Cell Plate ) গঠিত হয় । যা পরিবর্তিত হয়ে মধ্যপর্দা কোশ ( middle lamella ) গঠন করে ।

💠 গৌণ কোশ প্রাচীরে যে সমস্ত গর্ত পরিলক্ষিত হয় তাদের কুপ ( pit ) বলে ।

💠 কোশ পর্দায় 70 % ইনটিগ্রাল প্রােটিন এবং 30 % এক্সট্রিনসিক প্রােটিন থাকে ।

💠 সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্রের দুটি দশা দেখা যায় । ( i ) সল দশা ( ii ) জেল দশা ।

💠 উদ্ভিদ কোশে গলগিবস্তু অসংযুক্ত অবস্থায় একত্রে জালকের ন্যায় অবস্থান করে । উদ্ভিদ দেহে ইহাকে ডিকটিওজোম বলে ।

💠 স্ফেরােজোম হল গােলাকার 0.5um – 1um ব্যাস বিশিষ্ট কোশ অঙ্গনু , যা ফ্যাট সংশ্লেষ ও সঞ্চয় করে ।

💠 বিজ্ঞানী পারনার ( 1953 ) স্ফেরােজোম আবিষ্কার করেন ।

💠 রাইবােজোমের ‘ S ‘ বলতে বােঝায় ‘ Sedimentation co efficient ‘ বা ‘ Svedberg unit’ l

💠 রাইবােজোমের অধঃএককগুলি সংযুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ রাইবােজোম গঠিত হয় । ইহার জন্য Mg++ প্রয়ােজন ।

💠 মাইটোকন্ড্রিয়া , ক্লোরােপ্লাস্টিড এর নিজস্ব DNA রাইবােজোম এবং উৎসেচক থাকায় , এদের সেমি অটোনােমাস বা আংশিক স্বয়ংক্রিয় কোশ অঙ্গাণু বলে ।

💠 নিউক্লিয়াস ইউক্যারিওটিক কোশের সবচেয়ে বৃহৎ কোশীয় অঙ্গণ ।

💠 নিউক্লিয়াস দ্বি একক পর্দাযুক্ত কোশীয় অঙ্গানু । বহিঃপর্দাকে এক্টেক্যারিওথেকা এবং অন্তঃপর্দাকে এভােক্যারিওথেকা বলে । উভয় পর্দার মাঝের ফাঁকা স্থানকে পেরিনিউক্লিয়ার স্থান বলে ।

💠 নিউক্লিওলাস rRNA এবং প্রােটিন সহযােগে গঠিত ।

💠 মাইক্লেফিলামেন্ট সাইটোপ্লাজমীয় চলনকে নিয়ন্ত্রণ করে । বিশেষ করে এডােসাইটোসিস এবং এক্সেসাইটোসিস ।

💠 সেন্ট্রিওল MTOCs গঠনের মাধ্যমে বেমতন্তু গঠন করে , যা কোশ বিভাজনকে নিয়ন্ত্রণ করে ।

💠 পারঅক্সিজোম এবং প্লাইঅক্সিজোমকে একত্রে মাইক্রোবডিজ বলে l

💠 মূলের অবঁদে পারঅক্সিজোম সংবন্ধ হওয়া নাইট্রোজেনকে উরিডস এ পরিণত করে ।

💠 কোশীয় অণুগুলির আনবিক গঠন X – Ray Crystallography পদ্ধতিতে জানা যায় ।

💠 অ্যাসিটোকারমিন বা অ্যাসিটোঅরসিন রঞ্জক দ্বারা ক্লেমােজোম রং করা হয় l

💠 সেলুলােজ নির্মিত বেশ প্রাচীরকে Acid Fuchsine দ্বারা রঞ্জিত করা হয় ।

💠 নিউক্লিয়াস বেসিক ফুচসিন , হিমাটোজাইলিন এবং ম্যালাকাইট গ্রীন রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় ।

💠 ব্যাকটেরিয়ার কেশ ক্রিস্টাল ভায়ােলেট এবং স্যাফ্রানাইন রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় ।

💠 রক্ত কণিকাকে লিসম্যান রঞ্জকে রঞ্জিত করা হয় ।

💠 সুদান 4 রঞ্জুকে চবি ও তৈল পদার্থ রঞ্জিত করা হয় ।

💠 আয়ােডিনের সাহায্যে স্টার্চ রঞ্জিত করা হয় ।

💠 সাধারণতঃ সাইটোপ্লাজমের pH কিছুটা অ্যাসিডিক 6.8 এবং নিউক্লিওপ্লাজমের pH 7.6 থেকে 7.8 হয় , অর্থাৎ ক্ষারীয় ।

💠 কোশের 90 % জৈব পদার্থ এবং 10 % অজৈব পদার্থ ।

💠 ফ্লেরেনকাইমা তন্তু হল উদ্ভিদের সবচেয়ে বৃহৎ কোশ ।

💠 নিউক্লিয়াসকে কোশের মস্তিষ্ক বলা হয় ।

💠 মাইটোকনড্রিয়াকে কোশের শক্তিঘর বলা হয় ।

💠 লাইসােজোমকে আত্মঘাতী থলি বলা হয় ।

💠 রাইবােজোমকে কোশের প্রােটিন ফ্যাক্টরী বলা হয় ।

💠 মানুষের মেমরী কোশ ( memory cell ) সবচেয়ে বৃহৎ জীবনকাল যুক্ত কোশ ।

💠 স্ফেরােজোমকে উদ্ভিদের লাইসােজোম বলে ।

💠 GERL তন্ত্র গলগিবডি , এন্ডােপ্লাজমিক রেটিকুলাম এবং লাইসােজোমের সমন্বয়ে গঠিত হয় l

💠 কোশের ভ্যাকুওলের চারপাশে যে ঘন সাইটোপ্লাজম পরিলক্ষিত হয় তাকে টোনােপ্লাজম বলে ।

💠 কোশের মধ্যে অবস্থিত ক্যালসিয়াম অক্সালেটের কেলাসকে র্যাফাইডস বলে ।

💠 কোশের মধ্যে অবস্থিত ক্যালসিয়াম কার্বনেটের কেলাসকে সিস্টোলিথ বলে‌ ।

Related posts:

পদার্থ কাকে বলে ? পদার্থ ও বস্তু কি এক ?
প্রশ্ন : মূল্যায়ন কাকে বলে ? মূল্যায়ন কয় প্রকার ও কী কী ? যে - কোনো একপ্রকার মূল্যায়নের বিবরণ দি...
একক পাঠ পরিকল্পনা কাকে বলে ? পাঠ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা লিখুন । এর সুবিধা লিখুন ।
শিক্ষা পরিকল্পনা কাকে বলে ? শিক্ষা পরিকল্পনার শ্রেণিবিভাগ করুন । যেকোনো একপ্রকার পরিকল্পনার বিবরণ দি...
ধারণা মানচিত্র কাকে বলে ? এর বৈশিষ্ট্য লিখুন । বাস্তবায়নের উপায় লিখুন । এর গুরুত্ব লিখুন ।
পাঠ একক বিশ্লেষণ কাকে বলে ? পাঠ একক বিশ্লেষণের স্তর বা ধাপগুলি লিখুন
অন্তর্ভুক্তিকরণে ( সমন্বিত শিখনে ) প্রদর্শিত শিল্পকলার কীভাবে প্রয়োগ করবেন
প্রদর্শিত শিল্পকলার লক্ষ্য , বৈশিষ্ট্য , গুরুত্ব ও বাস্তবায়নের কৌশল
প্রাথমিক স্তরে পাঠদানের ক্ষেত্রে নাটকের ব্যবহার
মূল্যবোধ শিক্ষায় বিদ্যালয় ও শিক্ষকের ভূমিকা
মূল্যবোধ || মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য || প্রাথমিক স্তরে মূল্যবোধের শিক্ষার গুরুত্ব
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ভূমিকা
সমন্বয়িত শিক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা ও সাফল্য
পাঠক্রম পরিব্যাপ্ত শিক্ষণবিজ্ঞানে তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ব্যবহার
পাঠক্রম পরিব্যাপ্ত শিক্ষণবিজ্ঞানে তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ব্যবহার
উদাহরণসহ প্রকল্প পদ্ধতির বিবরণ
পূর্বসূত্রজনিত শিখন ( Contextualization ) কাকে বলে ?
জ্ঞান , পাঠক্রম , পাঠ্যবই , শিক্ষার্থী ও শিক্ষণবিজ্ঞানের মধ্যের সম্পর্ক
অনুসন্ধান পদ্ধতি
জ্ঞান নির্মাণ কীভাবে হয় উদাহরণসহ আলোচনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page