বাগযন্ত্র এর যন্ত্রাংশ

🛑 ফুসফুস ( Lungs ) :
বাগধ্বনি সৃষ্টিতে ফুসফুস সরাসরি কিছু করে না । তবুও তার ভূমিকা বাগধ্বনি সৃষ্টির ক্ষেত্রে অপরিহার্য । ফুসফুসের কাজ হল বাতাস টানা আর বাতাস ছাড়া । এই বাতাসকে বলা হয় শ্বাসবায়ু । ধ্বনি সৃষ্টির প্রধান কারিগর হল এই শ্বাসবায়ু । শ্বাসবায়ু ফুসফুস থেকে শ্বাসনালি হয়ে মুখগহ্বর ও নাসিকা গহ্বর হয়ে বেরােনাের সময় মুখ , নাক , জিহ্বা , ঠোঁট ইত্যাদি কোনাে না কোনাে জায়গায় বাধা পেয়ে বাতাসে নানা মাপের , নানা ধরনের তরঙ্গ বা ঢেউ তােলে । এগুলিই শব্দতরঙ্গ বা ধ্বনি । কাজেই ফুসফুস শ্বাসবায়ু ছেড়ে তাতে গতির সঞ্চার না করলে বাগধ্বনির উৎপত্তি সম্ভবই নয় ।

🛑 শ্বাসনালি ও স্বরযন্ত্র ( Wind pipe and Larynx ) :
ফুসফুস থেকে শ্বাসবায়ু আসে শ্বাসনালিতে । শ্বাসনালি হল শ্বাসবায়ু যাওয়া – আসার নালাপথ । শ্বাসনালি হয়ে শ্বাসবায়ু একটু এগােলেই পৌঁছায় স্বরযন্ত্র বা স্বরকক্ষে । লক্ষ করলে দেখা যাবে গলগণ্ডে একটি ফোলা অংশ আছে , যাকে বলা হয় ‘ আদমের আপেল ‘ । এখানেই স্বরকক্ষটি অবস্থান করছে । এই স্বরকক্ষের মধ্যে দুটি পাতলা ঝিল্লি থাকে । শ্বাসবায়ু বেরােনাের সময় এই দুটি প্রয়ােজন মতাে খুলে যায় আবার বন্ধও হয় । এরই নাম স্বরতন্ত্রী বা স্বরপল্লব ( Vocal chords ) । এ দুটি নাড়া খেলে উৎপন্ন হয় কণ্ঠস্বর বা কণ্ঠ্যধ্বনি ।

🛑 কণ্ঠনালি বা গলমুথ ( Pharynx ) :
নাসিকা গহ্বর ও মুখগহ্বরের মােহানা বা মিলনস্থলে এসে মিশেছে শ্বাসনালি । শ্বাসনালির এই মিলনস্থলকে বলা হয় কণ্ঠনালি বা গলমুখ । এখান থেকে কণ্ঠনালীয় ধ্বনি ( Pharynx sound ) উৎপন্ন হয় । প্রাকৃতিক নিয়মে খাদ্যনালি ও শ্বাসনালি যে যার পথে খাদ্য ও শ্বাস যায় যথাক্রমে উদরে ও ফুসফুসে । অবশ্য শ্বাসনালির ওপর প্রান্তে ছােট্ট জিভের মতাে একটি ঢাকনা আছে । খাদ্যগ্রহণ ছাড়া অন্য সময়ে ওই ছােট্ট জিভটি শ্বাসবায়ু স্বচ্ছন্দে যাতায়াতের জন্য খাড়া হয়ে খােলা থাকে । একমাত্র খাদ্য বা জল গ্রহণের সময় শ্বাসনালির মুখের ওপর ঢাকনার মতাে বন্ধ হয়ে যায় । একে উপজিহ্বা ( Epiglottis ) বলা হয় ।

🛑 জিহ্বা ( Tongue ) :
বাগ্যন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় অংশ জিভ ( Tongue ) । এটি গুরুত্বপূর্ণও বটে । জিহ্বার চারটি ভাগ —
( ১ ) জিহ্বা শিখর ( Apex ) ,
( ২ ) জিহ্বাগ্র ( Blade of the tongue ) ,
( ৩ ) জিহ্বা সম্মুখ ( Front of the tongue ) , ( ৪ ) জিহ্বা পশ্চাৎ ( Back of the tongue ) ।

জিহ্বার বিভিন্ন অংশ যেমন — দন্ত , দন্তমূল , অগ্ৰতালু , মূর্ধা , পশ্চাৎ তালু প্রভৃতি জায়গায় শ্বাসবায়ুর প্রবাহকে বাধা দিয়ে ধ্বনি তরঙ্গের সৃষ্টি করে । ফলে বিভিন্ন ধ্বনির উৎপত্তি হয় ।

🛑 দন্ত দন্তমূল অগ্রতালু মূর্ধা পশ্চাৎ তালু ( Teeth , Teeth – Ridge , Hard – Palate , Dome , Soft – Palate ) :
লক্ষ করলে দেখা যাবে মুখগহ্বর ও নাসিকা গহ্বরের মাঝে বিরাজ করছে একটি শক্তপােক্ত দেয়াল । দেয়াল না বলে , বলা যায় মুখগহ্বরের ছাদ । ছাদের শুরুতেই ওপরের ঠোঁটের পরেই আছে দাঁতের পাটি । বাগযন্ত্র হিসেবে দাঁতের ভূমিকা থাকলেও নীচের পাটিতে দাঁত সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় , উচ্চারণে তাদের কোনােরকম ভূমিকা নেই । নির্দিষ্ট কিছু ধ্বনি উচ্চারণের জন্য ওপরের পাটির দাঁতের কিছু ভূমিকা থাকলেও সব দাঁতের নেই , সামনের কয়েকটি দাঁত ধ্বনি উচ্চারণে সক্রিয় অংশ নেয় । ওপরের পাটির সামনের দাঁতের মূল বা মাড়ি উচ্চারণে সাহায্য করে । দাঁতে উচ্চারিত ধ্বনি হল দন্ত্যধ্বনি , ‘ দন্তমূলে উচ্চারিত ধ্বনি হল দন্ত্যমূলীয় ধ্বনি । দন্তমূল পার হলে তালুর যে শক্ত অংশ , তার নাম অগ্ৰতালু । তালুর সর্বোচ্চ অংশ হল মূর্ধা , মুর্ধার পরের অংশ হল অপেক্ষাকৃত কোমল তালু । এই অংশ পশ্চাৎ তালু নামে পরিচিত । দন্ত্য , দন্ত্যমূলীয় , তালব্য , মূর্ধা প্রভৃতি ব্যঞ্জনধ্বনি ও কিছু স্বরধ্বনি এখান থেকে উচ্চারিত হয় ।

🛑 ওষ্ঠ ও নাসিকা ( Lips and Nasal ) :
বাগ্যন্ত্রের আর – এক অংশ হল ওষ্ঠ ( Lips ) । ভাষাবিজ্ঞানে ওপর ও নীচের দুই ঠোঁটকে ওষ্ঠ বলা হয় । যদিও সাধারণভাবে ওপরের ঠোঁটকে ওষ্ঠ , নীচের ঠোঁটকে অধর বলা হয় । প , ব , ম উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি বন্ধ হয় । বাকি সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি খােলা থাকে । ওষ্ঠে উচ্চারিত ধ্বনি ওষ্ঠ্যধ্বনি ( Labial Sound ) ।

বাগধ্বনি উচ্চারণে নাকেরও ভূমিকা আছে । শ্বাসবায়ু মুখবিবরে ধাক্কা খেয়ে নাসিকাপথে নির্গত হওয়ার সময় অনুনাসিকতার সৃষ্টি হয় । এই সৃষ্ট ধ্বনি নাসিক্যধ্বনি ( Nasal Sound ) । বাংলায় এরকম ব্যঞ্জনধ্বনি হল ঙ্, ন্ , ম্ । বাংলায় চন্দ্রবিন্দু যােগে সব স্বরধ্বনি অনুনাসিক হয়ে উচ্চারিত হয় । যেমন – ইঁ , আঁ , অঁ , অ্যাঁ , ওঁ , উঁ ।

Related posts:

পদার্থ কাকে বলে ? পদার্থ ও বস্তু কি এক ?
প্রশ্ন : মূল্যায়ন কাকে বলে ? মূল্যায়ন কয় প্রকার ও কী কী ? যে - কোনো একপ্রকার মূল্যায়নের বিবরণ দি...
একক পাঠ পরিকল্পনা কাকে বলে ? পাঠ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা লিখুন । এর সুবিধা লিখুন ।
শিক্ষা পরিকল্পনা কাকে বলে ? শিক্ষা পরিকল্পনার শ্রেণিবিভাগ করুন । যেকোনো একপ্রকার পরিকল্পনার বিবরণ দি...
ধারণা মানচিত্র কাকে বলে ? এর বৈশিষ্ট্য লিখুন । বাস্তবায়নের উপায় লিখুন । এর গুরুত্ব লিখুন ।
পাঠ একক বিশ্লেষণ কাকে বলে ? পাঠ একক বিশ্লেষণের স্তর বা ধাপগুলি লিখুন
অন্তর্ভুক্তিকরণে ( সমন্বিত শিখনে ) প্রদর্শিত শিল্পকলার কীভাবে প্রয়োগ করবেন
প্রদর্শিত শিল্পকলার লক্ষ্য , বৈশিষ্ট্য , গুরুত্ব ও বাস্তবায়নের কৌশল
প্রাথমিক স্তরে পাঠদানের ক্ষেত্রে নাটকের ব্যবহার
মূল্যবোধ শিক্ষায় বিদ্যালয় ও শিক্ষকের ভূমিকা
মূল্যবোধ || মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য || প্রাথমিক স্তরে মূল্যবোধের শিক্ষার গুরুত্ব
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষায় তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ভূমিকা
সমন্বয়িত শিক্ষণে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সমস্যা ও সাফল্য
পাঠক্রম পরিব্যাপ্ত শিক্ষণবিজ্ঞানে তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ব্যবহার
পাঠক্রম পরিব্যাপ্ত শিক্ষণবিজ্ঞানে তথ্য ও সংযোগসাধন প্রযুক্তির ব্যবহার
উদাহরণসহ প্রকল্প পদ্ধতির বিবরণ
পূর্বসূত্রজনিত শিখন ( Contextualization ) কাকে বলে ?
জ্ঞান , পাঠক্রম , পাঠ্যবই , শিক্ষার্থী ও শিক্ষণবিজ্ঞানের মধ্যের সম্পর্ক
অনুসন্ধান পদ্ধতি
জ্ঞান নির্মাণ কীভাবে হয় উদাহরণসহ আলোচনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page