সিন্ধু সভ্যতা (হরপ্পা)

💠 সিন্ধু সভ্যতা :

অবস্থান ও সময়কাল :
বর্তমান পাকিস্তানের উত্তর – পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়েছে বিশাল সিন্ধু নদ । সিন্ধু নদ দক্ষিণে আরব সাগরে পতিত হয়েছে । সিন্ধু নদের উত্তর – পূর্বে পাঞ্জাবে ছিল হরপ্পা নগরীর অবস্থান । আর দক্ষিণে লারকানা জেলায় ছিল মহেঞ্জোদারাে নগরী । সিন্ধু নদের জলে তৈরি এ বিশাল উর্বর ভূমিতে গড়ে উঠেছিল যে সভ্যতা , তাকে বলা হয় সিন্ধু সভ্যতা ।

বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার জন মার্শালের মতে , প্রাচীন সভ্যতাটি খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ অব্দের মধ্যে পূর্ণভাবে বিকাশ লাভ করেছিল । উত্তর – পূর্ব পাঞ্জাবে সিন্ধু নদের উপনদী রাভীর তীর ঘেঁষে প্রাচীন হরপ্পা নগরী এবং লারকানা জেলায় মূল সিন্ধুর তীরে এক বর্গমাইল এলাকা জুড়ে মহেঞ্জোদারাে নগরীটির অবস্থান ছিল । আর হরপ্পা নগরের সমতল ভূমির পরিমাণ ছিল আড়াই মাইল ।

তবে সিন্ধু সভ্যতার সঠিক সময়কাল এবং কারা এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায় নি । সিন্ধু সভ্যতা থেকে প্রাপ্ত সিলমােহর ও অন্যান্য নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয় যে , এ সভ্যতার আদিবাসীরা লিখতে ও পড়তে জানত । কিন্তু এ লেখাগুলাে থেকে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য ও পাঠোদ্ধার করা যায় নি । এদের সিল ও মাটির পাত্রের সাথে মেসােপটেমীয় দ্রব্যের মিল দেখে এ সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল নির্ণয় করা হয়েছে । ধারণা করা হয় যে , দ্রাবিড় জাতি – এ সভ্যতা গড়ে তুলেছিল ।



সিন্ধু সভ্যতার অবদান :

নগর পরিকল্পনা :
সভ্যতার ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতা একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা দিয়েছে । হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারাে নগরী দুটো প্রায় একই পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে উঠেছিল । এখানে নগরবাসীদের সকল সুবিধা দেয়া হয়েছিল । যেমন- রাস্তাঘাট , সরবরাহকৃত জল , ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা , স্নানাগারের ব্যবস্থা , রাস্তাঘাট নিয়মিত পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন করা , ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন , শহরে বাতি দ্বারা আলােকিত করা প্রভৃতি । নিরাপত্তার জন্য প্রয়ােজনীয় সৈন্য মােতায়েন করা প্রভৃতি । সিন্ধু সভ্যতা পর্যালােচনা করলে দেখা যায় যে , সিন্ধু সভ্যতা আধুনিক সভ্যতার মতাে উন্নত ছিল ।



পরিমাপ পদ্ধতি :
ওজন করার জন্য পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবন করা ছিল সিন্ধু সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান । তারা ওজন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের বাটখারা ব্যবহার করত । আর কোন কিছুর দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য ব্যবহার করত স্কেল ।


স্থাপত্য ও ভাস্কর্য :
স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে মিশর ও মেসােপটেমিয়ার মতাে সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । চমৎকার সব স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে সিন্ধু সভ্যতায় । তাদের ঘরবাড়িগুলাে দেখলে সহজে বোঝা যায় – নগরবাসীরা বিলাসী ছিল । মহেঞ্জোদারাের স্থাপত্যের চমৎকার উদাহরণ হলো ‘ বৃহৎ হল ‘ । ৮০ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হয়েছিল এ ঘরটি । ঘরে ছিল সারি বাঁধা বেঞ্চ আর সামনে মঞ্চ । এটি একটি সভাগৃহ ছিল বলে ধারণা করা হয় । হরপ্পাতে ১৬৯x১৩৫ ফুটের একটা প্রকাণ্ড গুদামঘর পাওয়া গেছে ।

পাথর ও ব্রোঞ্জের প্রচুর ভাস্কর্য পাওয়া গেছে সিন্ধু সভ্যতায় । সেখানে বিভিন্ন মানুষের ও পশুর নিখুঁত এমন মূর্তি পাওয়া গেছে যাতে তাদের দক্ষতার পরিচয় ফুটে উঠেছে ।

হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারােতে পাওয়া গেছে প্রায় ২৫০০ সিল । পাথরের তৈরি এ সিলগুলাের অধিকাংশই ছিল চারকোণা । সিলগুলােতে বিভিন্ন চিহ্ন- ষাঁড় , মহিষ প্রভৃতি পশুর প্রতিকৃতি ছিল । এগুলাে এক ধরনের চিত্রলিপি বলে মনে করা হয় । বাণিজ্য ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এ সমস্ত সিল ব্যবহার করা হতাে ।


শিল্পজাত দ্রব্য :
সিন্ধু সভ্যতায় বেশ কিছু শিল্পজাত দ্রব্য পাওয়া গেছে । এখানে বিভিন্ন প্রকার খেলনা তৈরি হতাে । গােলাকার বিভিন্ন মাটির পাত্রে ফুটিয়ে তােলা হতাে বিভিন্ন নকশা । মাটি ছাড়া সিন্ধু সভ্যতার কারিগররা রুপা , তামা , ব্রোঞ্জ প্রভৃতির দ্বারা তৈজসপত্র তৈরি করত । স্বর্ণ শিল্পীরা বিভিন্ন আকৃতির অলংকার তৈরি করতে ছিল দক্ষ । তারা সােনা , রুপা , তামা , ইলেকট্রোন ও ব্রোঞ্জ দ্বারা আংটি , বালা , নাকফুল , গলার হার , কানের দুল , বাজুবন্দ প্রভৃতি অলংকার তৈরি করত ।



সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংস :
সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস হয় ২৭০৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে । প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে , এ সময় প্রলয়ঙ্করী বন্যা হয় । বন্যায় হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারাে নগরী তলিয়ে যায় । প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে ধারণা করা হয় যে , ক্রমাগত বন্যায় নগর দুটি ধীরে ধীরে মাটির নিচে হারিয়ে যায় ।


সার – সংক্ষেপ :
সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে প্রধানত দুটো অঞ্চলে – পাঞ্জাবের হরপ্পায় এবং সিন্ধুর মহেঞ্জোদারােতে । প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে একথা প্রমাণিত হয়েছে যে , এ এলাকায় জনগােষ্ঠী গ্রামীণ জীবন ত্যাগ করে সুপরিকল্পিত নগরের পত্তন ঘটিয়েছিল । আধুনিক সভ্যতায় সিন্ধু সভ্যতার অনেক অবদান রয়েছে ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page