সালােকসংশ্লেষ

📚 সালােকসংশ্লেষ :

📑 কাজ করতে গেলে শক্তি লাগে — তা সে কাজ কোন যন্ত্রই করুক কিংবা কোনও জীব । পেট্রল , ডিজেলে যে রাসায়নিক শক্তি আছে তা কাজে লাগিয়ে মােটর গাড়ি চলে । ট্রাম , ট্রেন চলে বৈদ্যুতিক শক্তির সাহায্যে । এখন আমরা যে হাঁটাচলা করি , নানারকম কাজ করি বা জীবেরা যে বিভিন্ন বিপাকক্রিয়া করে থাকে তার জন্যও তাে শক্তি লাগে ! সেই শক্তি কোথা থেকে আসে ?

📑 জীবেরা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে সেই শক্তি পেয়ে থাকে । এখন খাবারের মধ্যে শক্তি এল কেমন করে ? আমরা জানি , পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হল সূর্য । সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের দেহে যে খাবার তৈরি করে , সেই খাবারের মধ্যেই সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে । অন্যান্য জীবেরা প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে উদ্ভিদজাত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রয়ােজনীয় শক্তি অর্জন করে । যে পদ্ধতিতে সবুজ উদ্ভিদরা তাদের দেহে খাবার তৈরি করে , তার নামই হল সালােকসংশ্লেষ ।

📕 1.1 সালােকসংশ্লেষের সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা ( Definition and explanation of Photosynthesis ) :

🧾 সবুজ উদ্ভিদরা পরিবেশ থেকে কাঁচামাল কার্বন ডাই – অক্সাইড ( CO2 ) এবং জল ( H2O ) সংগ্রহ করে পাতার মেসােফিল কলায় নিয়ে আসে । সূর্যালােকের উপস্থিতিতে এবং ক্লোরােফিলের জল ও কার্বন ডাই – অক্সাইডের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় শর্করা জাতীয় খাদ্য— গ্লুকোজ । উৎপন্ন গ্লুকোজে সূর্যের আলােক গতিশক্তি রাসায়নিক স্থিতিশক্তি রূপে আবদ্ধ হয় । শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের সময় উপজাত পদার্থ হিসেবে জল ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয় । অক্সিজেন পরিবেশে পরিত্যক্ত হয় এবং জল বিপাকীয় ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে । সূর্যালােকের উপস্থিতিতে উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির পদ্ধতিকে সালােকসংশ্লেষ বা ফটোসিন্থেসিস বলে । [ ফটোসিন্থেসিস ’ কথাটি ‘ ফোটোস ’ ( Photos অর্থাৎ আলােক ) এবং সিন্থেসিস ’ ( synthe sis অর্থাৎ সংশ্লেষ ) —এই দুটি গ্রীক শব্দ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে । আলােকের উপস্থিতিতে সংশ্লেষ ঘটে , বলেই একে সালােকসংশ্লেষ ( স + আলােক সংশ্লেষ ) বলে । ]

🔘 সালােকসংশ্লেষের সহজ সংজ্ঞা : যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদেরা সূর্যালােকের উপস্থিতিতে ও ক্লোরােফিলের সাহায্যে পরিবেশ থেকে গৃহীত জল ও কার্বন ডাই – অক্সাইডকে সংযুক্ত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন করে এবং উপজাত পদার্থ হিসেবে জল ও অক্সিজেন নির্গত করে , সেই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকেই সালােকসংশ্লেষ বলে ।

সালােকসংশ্লেষের বিভিন্ন উপাদান ও তাদের উৎস :

📕 1.2 সালােকসংশ্লেষের বিভিন্ন উপাদান ও তাদের উৎস ( Components of photosynthesis & their sources ) :

🔲 [ 1 ] সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার পরিবেশ থেকে গৃহীত বাহ্যিক উপাদান : সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার জন্য পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই – অক্সাইড , সূর্যালােক এবং জল গৃহীত হয় । এর মধ্যে জল ও কার্বন ডাই – অক্সাইড সালােকসংশ্লেষের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয় ।

🔘 ( a ) কার্বন ডাই – অক্সাইডের উৎস : ( i ) স্থলজ ও পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে পত্ররন্দ্র দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই – অক্সাইড শােষণ করে । ( ii ) জলজ উদ্ভিদ জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই – অক্সাইড ( কার্বোনেট ও বাইকার্বোনেট যৌগ ) জলে নিমজ্জিত অংশ দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শােষণ করে ।

🔘 ( b ) সূর্যালােকের উৎস : সূর্যই সূর্যালােকের উৎস । উদ্ভিদ সবুজ পাতায় থাকা ক্লোরােপ্লাস্ট মধ্যস্থ ক্লোরােফিলের সাহায্যে সূর্য থেকে সূর্যালােক অর্থাৎ সৌরশক্তি শােষণ করে । জলজ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে জলে প্রবেশকারী সূর্যরশ্মি এর উৎস ।

🔘 ( c ) জলের উৎস :
( i ) স্থলজ উদ্ভিদ মাটি থেকে এককোষী মূলরােমের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কৈশিক জল শােষণ করে ।

( ii ) জলজ উদ্ভিদ পারিপার্শ্বিক পরিবেশের জলাশয় থেকে দেহের নিমজ্জিত অংশ দিয়ে ব্যাপন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় জল শােষণ করে ।

( iii ) পরাশ্রয়ী উদ্ভিদরা যেমন— বাসনা বায়ুমণ্ডল থেকে বায়বীয় মূল দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্প শােষণ করে ।

🔲 [ 2 ] . সালােকসংশ্লেষের অভ্যন্তরীণ উপাদান — ক্লোরােফিল : সালােকসংশ্লেষে সাহায্যকারী একটি অভ্যন্তরীণ উপাদান হল ক্লোরােফিল । এই কণা উদ্ভিদের সবুজ কোষে অবস্থিত ক্লোরােপ্লাস্ট নামে কোষ অঙ্গাণুর গ্রাণা অঞ্চলের কোয়ান্টাজোমে থাকে । এর রাসায়নিক উপাদান হল : কার্বন ( C ) , হাইড্রোজেন ( H ) , অক্সিজেন ( O ) নাইট্রোজেন ( N ) এবং ধাতব ম্যাগনেসিয়াম
( Mg ) ।

ক্লোরােফিল প্রধানত a , b , c , d এবং e— এই পাঁচ রকমের হয় । এছাড়া ব্যাকটিরিয়ার দেহে ব্যাকটিরিওক্লোরােফিল থাকে । সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় ক্লোরােফিল a এবং b মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে ( রাসায়নিক সংকেত ক্লোরােফিল a—C55H72O5N4Mg ; ক্লোরােফিল b—C55H70O6N4Mg ) ।

মেসােফিল কলা সালােকসংশ্লেষের মুখ্য স্থান :

📕 1.3 মেসােফিল কলা সালােকসংশ্লেষের মুখ্য স্থান ( Mesophyll tissue is the chief site of Photosynthesis ) :

যে – কোনও ক্লোরােফিল যুক্ত কোষেই সালােকসংশ্লেষ সম্পন্ন হতে পারে , তবে পাতার মেসােফিল কলাই হল সালােকসংশ্লেষের আদর্শ স্থান । কারণ পাতা চ্যাপ্টা ও প্রসারিত হওয়ার জন্য বেশি পরিমাণ সূর্যালােক শােষিত হতে পারে । মেসােফিল কলার কোষগুলিতে ক্লোরােপ্লাস্টের সংখ্যা এবং পত্ররন্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সালােকসংশ্লেষের জন্য প্রয়ােজনীয় কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি পরিমাণে সংগৃহীত হতে পারে ।

📕 14 সালােকসংশ্লেষের সামগ্রিক সমীকরণ ( Overall Reaction of Photosynthesis ) :

🧾 সালােকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় 12 অণু জলের ( H2O ) সঙ্গে 6 অণু কার্বন ডাই – অক্সাইডের ( CO2 ) রাসায়নিক বিক্রিয়ায় 1 অণু গ্লুকোজ ( C6H12O6 ) , 6 অণু জল ( H2O ) এবং 6 অণু অক্সিজেন ( O2 ) উৎপন্ন হয় । এই বিক্রিয়াটি ক্লোরােফিলের সক্রিয়তায় এবং সূর্যালােকের উপস্থিতিতে ঘটে । সালােকসংশ্লেষ বিক্রিয়াটির সম্পূর্ণ সমীকরণটি হল :

         সূর্যালােক

6CO2 + 12H20 ––––––> C6H12O6 + 602T + 6H20 ক্লোরোফিল

📜 উপরের সমীকরণটির ( বিক্রিয়াটির ) দ্বারা নীচের তথ্যগুলাে প্রতিপন্ন হয় , যেমন : –

🔘 ( i ) বিক্রিয়াটি সালােকসংশ্লেষ পদ্ধতির সামগ্রিক রাসায়নিক বিক্রিয়া ।

🔘 ( ii ) এই বিক্রিয়াটিতে 6 অণু কার্বন ডাই – অক্সাইড ও 12 অণু জলের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় | অণু গ্লুকোজ , 6 অণু জল এবং 6 অণু অক্সিজেন উৎপন্ন হয়েছে ।

🔘 ( iii ) এই বিক্রিয়াটি সূর্যালােকের উপস্থিতিতে এবং কেবলমাত্র ক্লোরােফিলের সহায়তায় সম্পন্ন হয় ।

🔘 ( iv ) এই বিক্রিয়াটিতে যত অণু কার্বন ডাই – অক্সাইড গৃহীত হয় , ঠিক তত অণু অক্সিজেনও নির্গত হয় ।

🔘 ( v ) এই বিক্রিয়াটির প্রাথমিক উপাদান হল জল ও কার্বন ডাই – অক্সাইড এবং উৎপন্ন পদার্থ হল্প গ্লুকোজ , জল এবং অক্সিজেন ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page