শের শাহ ( 1540-45 ) খ্রিষ্টাব্দ

💠 শের শাহ ( 1540-45 খ্রিষ্টাব্দ ) :

🔹বিহারের সাসারামের জায়গীরদারের পুত্র ফরিদ বা শের খান ( খালি হাতে বাঘ মেরেছিলেন , তাই তার নাম হয় শের খান ) বিভিন্ন সমস্যা অতিক্রম করে প্রথমে সাসারামের শাসক ও পরে চুনার দুর্গের অধিপতি হন । বিহার ও বাংলা নিজের অধীনে এনে শের শাহ হুমায়ুনকে পরাজিত করে আফগান গােষ্ঠীপতিদের সংগঠিত করেন , এবং আগ্রা – দিল্লিতে পুনরায় আফগান আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন । শের শাহের সামরিক বিজয় উল্লেখযােগ্য । ব্রহ্মজিৎ গৌড় নামক জনৈক হিন্দু তার অন্যতম সেনানায়ক ছিলেন । 1545 সালে গােয়ালিয়রের কালিঞ্জর দুর্গ জয়ের সময় বারুদ ফেটে তিনি আহত হন ও পরে মারা যান , যদিও যুদ্ধে আফগানরাই জয়ী হয় ।

🔹শের শাহ বিভিন্ন দিক থেকে আকবরের প্রকৃত পূর্বসূরি ছিলেন । সেনাবাহিনীতে তিনি ‘ দাগ ’ ও ‘ চেহেরা ’ ফিরিয়ে এনে শৃঙ্খলা বাড়ান । বিচারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন । তাঁর পুত্র ইসলাম শাহ পরে আইনবিধি সংকলন করেন । সমগ্র রাজ্যের জমি জরিপ করে তিনি কৃষকদের অধিকারপত্র বা পাট্টা দেন । এজন্য তিনি কবুলিয়ত ( প্রজার স্বীকৃতি পত্র ) ও পাট্টা । ( জমিদারের স্বীকৃতিপত্র ) প্রথার প্রবর্তন করেন । নিয়মিত রাজস্ব আদায়ের জন্য শেরশাহ আমিন , শিকদার , কানুনগাে , প্লাটোয়ার ইত্যাদি কর্মচারীদের নিয়ােগ করেন । একটি নির্দিষ্ট রাজস্ব হার ( রাই ) ঠিক করে সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে কোনও শিথিলতা সহ্য করা হ’ত না । মুদ্রা সংস্কারের মাধ্যমে পরবর্তী প্রায় তিনশাে বছর ধরে শের শাহের রুপিয়া সবচেয়ে গ্রহণযােগ্য মুদ্রা হিসেবে রয়ে যায় ।

🔹সমগ্র দেশজুড়ে একটি উন্নত ডাকব্যবস্থা ( ঘােড়ার ডাক ) গড়ে তােলেন শের শাহ । বাণিজ্য ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য অন্তত তিনটি প্রধান সড়ক নির্মাণ করেন তিনি — বাংলার সােনাগাঁও থেকে পাঞ্জাবের সিন্ধু নদ পর্যন্ত গ্র্যাণ্ড ট্রাঙ্ক রােড , আগ্রা থেকে গুজরাট পর্যন্ত সড়ক এবং লাহাের – মুলতান সড়ক । তাছাড়া পথিপার্শ্বে সরাই নির্মাণ , আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ইত্যাদির ফলে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায় ।

🔹শের শাহের পর ইসলাম শাহও সুশাসক ছিলেন । হুমায়ুন 1555 সালে সিকান্দর সুরিকে পরাস্ত করে পুনরায় সাম্রাজ্য দখল করেন ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page