শিক্ষার অধিকার আইন (2009) বাস্তবায়নে বিদ্যালয় , শিক্ষক ও পিতা- মাতার ভূমিকা

প্রশ্ন : শিক্ষার অধিকার আইন (2009) বাস্তবায়নে বিদ্যালয় , শিক্ষক ও পিতা- মাতার ভূমিকা লিখুন ।

বিদ্যালয়ের ভূমিকা : এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনে বিদ্যালয়গুলি নিম্নলিখিত দায়িত্বসমূহ পালন করবে;

(ক) আইনের 2 নং ধারার (ঢ) উপধারার (i) অনুধারায় উল্লেখিত বিদ্যালয়সমূহ ভরতি হওয়া সমস্ত শিশুকে বিনা ব্যয়ে এবং আবশ্যিক প্রারম্ভিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করবে ।

(খ) আইনের 2 নং ধারার (ঢ) উপধারার (ii) অনুধারায় উল্লেখিত বিদ্যালয়সমূহ তাদের বার্ষিক ব্যয়ের যত শতাংশ অনুদান ইত্যাদি বাবদ আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে সেই শতাংশ অনুপাতে মোট ভরতি হওয়া শিক্ষার্থীর জন্য বিনা ব্যয়ে আবশ্যিক প্রারম্ভিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা রাখবে । এই শিক্ষার্থী সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ন্যূনতম 25 শতাংশ হবে ।

(গ) আইনের 2 নং ধারার (ঢ) উপধারার (iii) এবং (iv) অনুধারায় উল্লিখিত স্কুলগুলিও নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী দুর্বলতর শ্রেণি এবং অক্ষমতাযুক্ত শিশুদের মধ্য থেকে প্রথম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থী সংখ্যার অন্তত 25 শতাংশ ছাত্র নির্বাচন করে । ভরতি করার এবং তাদের বিনা ব্যয়ে এবং আবশ্যিকভাবে প্রারম্ভিক শিক্ষা শেষ । করার সুযোগ করে দেবে ।

ভরতির ক্ষেত্রে কোনোরকম ক্যাপিটেশন ফি বা বাছাই পদ্ধতি নয় : কোনো স্কুল অথবা ব্যক্তি শিশুর ভরতির সময় কোনো ক্যাপিটেশন ফি নিতে পারবে না বা ওই শিশুর বা তার পিতা – মাতা কিংবা অভিভাবককে কোনোরকম বাছাই পদ্ধতির সম্মুখীন করবে না ।

ভরতির জন্য বয়সের প্রমাণপত্র :

(1) প্রারম্ভিক শিক্ষার জন্য স্কুলে ভরতির সময় জন্ম , মৃত্যু এবং বিবাহ নিবন্ধীকরণ আইন , 1886 অনুসারে প্রদত্ত শংসাপত্র বা বিধি নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রমাণপত্র অনুসারে বয়স নির্ধারিত হবে ।

(2) বয়সের প্রমাণপত্র নেই এই অজুহাতে কোনো শিশুর স্কুলে ভরতি আটকাবে না ।

ভরতি করা আবশ্যিক : শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অথবা নির্দিষ্ট বর্ধিত সময়ের মধ্যে একজন শিশু স্কুলে ভরতি হতে পারবে । তবে ওই বর্ধিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও কোনো শিশুকে ভরতি হওয়া থেকে বঞ্চিত করা যাবে না ।

একই শ্রেণিতে না রাখা বা বহিষ্কার : কোনো শিশুকেই একই শ্রেণিতে রেখে দেওয়া যাবে । না বা প্রারম্ভিক শিক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল থেকে বহিষ্কার করা যাবে না ।

শারীরিক শাস্তি বা মানসিক উৎপীড়ন নিষিদ্ধকরণ

(1) কোনো শিশুকে শারীরিক শাস্তিদান বা মানসিক উৎপীড়ন করা চলবে না ।

(2) কেউ যদি উক্ত (1) উপধারা লঙ্ঘন করেন তাহলে তিনি তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চাকুরির শর্তানুযায়ী শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন । স্বীকৃতিপত্র ছাড়া কোনো স্কুল স্থাপন নিষিদ্ধ : এই আইন কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্থাপিত বা নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয় উক্ত কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতিপত্র ব্যতিরেকে স্থাপিত বা চালু হবে না । এক্ষেত্রে নির্দিষ্টকৃত বিধি মেনে তাদের আবেদন করতে হবে ।

স্বীকৃতিপত্র ছাড়া কোনো স্কুল স্থাপন নিশিদ্ধ: এই আইন কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব স্থাপিত বা নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পত্র বা চালু হবে না এক্ষেত্রে আবেদন

শিক্ষকের দায়িত্ব এবং ক্ষোভ নিরসন

(1) আইনের 23 নং ধারায় (1) উপধারা অনুসারে নিযুক্ত শিক্ষকগণ নিম্নোর পালন করবেন

(ক) নিয়মিত এবং যথাসময়ে স্কুলে হাজির হবেন ;

(খ) আইনের 29 নং ধারার

(গ) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠক্রমের সমস্তটাই শেষ করবেন , অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করবেন ।

(ঘ) প্রত্যেকটি শিশুর পঠন ক্ষমতার মূল্যায়ন করবেন এবং তদনুযায়ী প্রয়োজনবোে

(ঙ) পিতামাতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মিটিং করবেন এবং শিশুর শূজে । নিয়মিত হাজিরা , শিখন দক্ষতা , শিখনের অগ্রগতি ও শিশু সম্পর্কিত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাঁদের অবহিত করবেন , এবং

(চ) অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হলে তা পালন করবেন ।

(2) উক্ত (1) উপধারায় বর্ণিত দায়িত্বগুলি পালনে কোনো শিক্ষক ক্রমাগত ব্যর্থ হলে তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চাকুরির শর্তানুযায়ী তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গের দোষে অভিযুক্ত হবেন । তবে এই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বক্তব্য পেশের সুযোগ দিতে হবে ।

(3) যদি শিক্ষকের কোনো ক্ষোভ থাকে তাহলে বিধিনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তা প্রশমিত করতে হবে ।

পিতা-মাতা বা অভিভাবকের কর্তব্য ; প্রত্যেক পিতা – মাতা বা অভিভাবকের কর্তব্য হবে যথাক্রমে সন্তানকে পার্শ্ববর্তী স্কুলে ভরতি করা বা ভরতির ব্যবস্থা করা যাতে শিশুটি প্রারম্ভিক শিক্ষা পেতে পারে ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page