মৌর্যবংশ

💠 মৌর্যবংশ :

◼️ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ( 321-297 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) :

🔹 25 বছর বয়েসে কৌটিল্যের সহায়তায় ধননন্দকে পরাস্ত করে মগধের সিংহাসন দখল করেন ।

🔹নর্মদার উত্তর ও উত্তর – পশ্চিমে সমগ্র ভারত তিনি জয় করেন । 305 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের প্রাক্তন সেনাপতি তথা সিরিয়ার অধিপতি সেলুকাস নিকেটরকে পরাজিত করে সিন্ধু নদ – পরবর্তী অঞ্চলও সাম্রাজ্যভুক্ত করেন এবং গ্রিক রাজবংশের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন গ্রিক সূত্রে চন্দ্রগুপ্তকে ‘ স্যান্ড্রোক্যাটাস ‘ বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।

🔹জৈন কিংবদন্তি অনুযায়ী , চন্দ্রগুপ্ত পরিণত বয়সে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করে দক্ষিণ ভারতের শ্রবণবেলগােলায় জৈন মঠে চলে যান এবং সেখানেই স্বেচ্ছা অনশনে প্রাণত্যাগ করেন ।


◼️ বিন্দুসার ( 297-273 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) :

🔹 বিন্দুসার ‘ শত্রুর নিধনকারী ’ বা ‘ অমিত্রঘাত ‘ ( গ্রিকদের কাছে অমিএক্যাটাস ) নামে পরিচিত ছিলেন । তাঁর আমলে মৌর্য সাম্রাজ্য দক্ষিণে প্রসারিত হয় । সিরিয়া ও মিশরের গ্রিক রাজাদের সঙ্গে তাঁর যােগাযােগ ছিল ।


◼️ অশােক ( 273-232 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) :

🔹হিংসার মাধ্যমে অশোক সিংহাসন দখল করেন । একটি সূত্র অনুযায়ী , 99 জন ভ্রাতাকে হত্যা করে অশােক সিংহাসনারূঢ় হন , তাই 268 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয় ।

🔹,261-260 খ্রিষ্টপূর্বাব্দের কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ নৃশংসতায় অনুতপ্ত অশােক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী উপগুপ্তের প্রেরণায় বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন । কলিঙ্গ বিজয়ের বিবরণ অশােকের ত্রয়ােদশ শিলালেখ ( Rock Edict XIII ) – এ পাওয়া যায় । বাকি জীবন তিনি যুদ্ধের বদলে ধর্মবিজয়ের কথা প্রচার করেন । পাটলিপুত্রে 250 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অশােকের পৃষ্ঠপােষকতায় তৃতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয় । এর পর থেকে বৌদ্ধ ধর্মপ্রচারকরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েন । স্বয়ং সম্রাটের পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রা যান সিংহলে , যেখানকার রাজা তিসস্ বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন । সাঁচীর বিখ্যাত বৌদ্ধ স্তুপটিও অশােক নির্মাণ করেন ।

🔹অশােকের সময় মৌর্য সাম্রাজ্য গৌরবের চরম শিখরে পৌঁছায় । দ্বাদশ শতাব্দীর কাশ্মিরের ইতিহাস প্রণেতা কলহনের ‘ রাজতরঙ্গিনী ‘ থেকে জানা যায় উত্তরে কাশ্মীর তাঁর অধীন ছিল । কিংবদন্তি অনুযায়ী , শ্রীনগর শহরের প্রতিষ্ঠাতা অশােক । দক্ষিণে তাঁর প্রতিবেশী ছিল চোল , পাণ্ড্য , সত্যপুত্র ও কেরলপুত্র ; অর্থাৎ দক্ষিণের অনেক গভীরে মৌর্য সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত হয়েছিল ।

🔹প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিক থেকে মৌর্য আমলে একটি সর্বব্যাপ্ত কাঠামাে গড়ে তােলা হয়েছিল । কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে ও গ্রিক সূত্রে এই বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামাের বিবরণ পাওয়া যায় ।

🔹অশােকের পরে সাম্রাজ্য হয়তাে দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায় — পূর্ব সাম্রাজ্য ও পশ্চিম সাম্রাজ্য । শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে তার সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ সিংহাসন দখল করেন ( 180 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page