মেসােপটেমীয় – ব্যাবিলনীয় সভ্যতা

💠 মেসােপটেমীয় – ব্যাবিলনীয় সভ্যতা :

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল :

সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে আমােরাইট নামক এক জাতি বসবাস করত । এরা এক সময় মেসােপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তােলে । এদের এই সভ্যতাকে বলে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা । এ সভ্যতার পত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে । আমােরাইট নেতা হাম্মুরাবি ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ।

সামাজিক অবস্থা :
ব্যাবিলনীয় সমাজের মানুষ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল ।

উচ্চ শ্রেণী : উচ্চ শ্রেণীতে অবস্থান করত রাজা , পণ্ডিত , পুরােহিত ও সৈন্য । এদের নিজস্ব জমি ছিল ।

মধ্য শ্রেণী : শিল্পী ও স্বাধীন ব্যবসায়ীদের মনে করা হতাে মধ্যশ্রেণীর লােক ।

নিম্ন শ্রেণী : নিম্ন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল কৃষক , সাধারণ শ্রমিক ও দাস । সাধারণত যুদ্ধবন্দিদের দাস করা হতাে ।

গ্রিস , রােম , এশিয়া মাইনর , পারস্য , সিন্ধুদেশসহ প্রতিবেশী অঞ্চলগুলাের সাথে ব্যাবিলনীয়দের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল । পার্বত্য অঞ্চলের মানুষেরা ব্যাবিলনীয়দের কাছ থেকে শিল্পজাত দ্রব্য কিনত । ব্যাবিলনীয়রা আমদানি করত স্বর্ণ , রৌপ্য , তামা , কাঠ ও খনিজ লবণ । তারা ভারতবর্ষ থেকে হাতির দাঁত ও মরুভূমি অঞ্চল থেকে উট সংগ্রহ করত । ব্যাবিলনীয়রা ঘোড়ার ব্যবহার জানত ।


সভ্যতায় ব্যাবিলনীয়দের অবদান :

আইনের শাসন :
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় আইনের শাসন লক্ষ্য করা যায় । তাদের আইন ছিল প্রতিশােধমূলক । যেমন- দাঁতের বদলে দাঁত , চোখের বদলে চোখ , হাতের বদলে হাত , জীবনের বদলে জীবন ইত্যাদি । ২৮২ টি আইনে ব্যবসা – বাণিজ্য , পরিবার , সম্পত্তি , কৃষি , দাসসহ সবধরনের আইনের উল্লেখ ছিল । আইন সংকলক হিসেবে হাম্বুরাবি অমর হয়ে আছেন । তিনি ছিলেন সুমেরীয় আইনের প্রভাবে প্রভাবিত । তাই ব্যাবিলনীয় আইনে সুমেরীয় আইনের প্রভাব দেখা যায় । হিব্রু , ফিনিশিয় , রােমান সভ্যতায় এই আইনের প্রভাব রয়েছে ।


বিজ্ঞানে :
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় বিজ্ঞান চর্চার প্রভাব লক্ষ্য করা যায় । বিভিন্ন আবিষ্কারে তাদের অবদান রয়েছে । ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগে গণিতশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিদ্যায় উন্নয়ন ঘটে । চাঁদ পর্যবেক্ষণ করে ব্যাবিলনে পঞ্জিকা তৈরি হয়েছিল ।

ঘরবাড়ি নির্মাণ :
ব্যাবিলনে পাথুরে পাহাড় নেই । তাই রােদে শুকানাে ইট দিয়ে তারা ঘরবাড়ি বানাত । ব্যাবিলনীয় কারিগররা বিভিন্ন ধাতব দ্রব্য , মাটির পাত্র ও ঝুড়ি নির্মাণ করত বলে প্রমাণ পাওয়া যায় ।

ধর্মীয় প্রভাব :
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় ধর্মের প্রভাব দেখা যায় ।

প্রথমত , তারা বিভিন্ন দেব – দেবীর উপাসক ছিল । তাদের প্রধান দেবতার নাম ‘ মারদুক ‘ আর প্রধান দেবী ‘ ইশতার ‘ । তাদের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দেবতার নাম- ‘তাম্মুজ’ । আর অপদেবতার নাম ছিল হর্ডস ।

দ্বিতীয়ত , পরকাল বা মৃত্যুর পর পুনর্জন্মের কোন ধারণা ব্যাবিলনীয়দের ছিল না । তাদের ধর্মচিন্তায় কুসংস্কারের প্রাধান্য ছিল ।

তৃতীয়ত , মন্দির ব্যাবিলনীয় ধর্মে উল্লেখযােগ্য স্থান দখল করেছিল ।

শিল্পকলা :
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় তৈলচিত্রের সন্ধান পাওয়া যায় । তাদের আঁকা বিভিন্ন ছবি পাওয়া গেছে । জিগুরাট মন্দির পক্তে শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য কীর্তি , একটি মন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে যা ৭ তলা বিশিষ্ট ।


ভাষা ও সাহিত্য :
ব্যাবিলনীয়গণ সাহিত্য চর্চা করতেন । কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা হয় তাদের বিখ্যাত মহাকাব্য গিলগামেশ । তাদের ভাষা ছিল ৩০০ ধ্বনি চিহ্ন বিশিষ্ট ।


সার – সংক্ষেপ :

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার বিভিন্ন দিক আলােচনা করে আমরা বুঝতে পারি , বর্তমান বিশ্ব সভ্যতার পিছনে তাদের অনেক অবদান বিদ্যমান । প্রাচীন ব্যাবিলন নগরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে । তাদের বড় অবদান হলাে – পৃথিবীতে তারাই প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করে । শিক্ষা , সংস্কৃতি , জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা অনেক উন্নতি করতে পেরেছিল । বিশেষ করে আইনের ক্ষেত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page