মধ্যযুগের মুদ্রা

📚 মধ্যযুগের মুদ্রা

📑 টাঙ্কা বা টাকা – রূপার টাকা ছিল মধ্যযুগের প্রধান মুদ্রা , প্রথম চালু করেন ইলতুৎমিস । পরে সাম্রাজ্যের আর্থিক অবস্থা ও রূপার জোগানের ভিত্তিতে টাঙ্কার ওজন কম – বেশি হয়েছে এবং কখনও কখনও টাঙ্কা দুর্লভও হয়েছে । পরে শের শাহ যে রূপার টাস্কা বা রুপিয়া চালু করেন , তা 1835 খ্রিষ্টাব্দ অবধি প্রামাণ্য মুদ্রা হিসেবে গণ্য হত ।

📑 জিতল — তামার মুদ্রা , এটির প্রথমে মূল্য ছিল টাঙ্কার অর্ধেক ।

📑 শাসগনী — এটি ছিল ছয় জিতলের সমতুল্য মুদ্রা ।

📑 দাম — আরেকটি তাম্র মুদ্রা , মুঘল আমলে দামের অংশভাগকে আবার জিতল বলা হত ।

‌ 📑 জালালি — আকবরের আমলে চালু করা চৌকো মুদ্রা জালালি নামে পরিচিত ছিল ।


📚 শিবাজি ( 1627-1680 খ্রিষ্টাব্দ )

📑 মহারাষ্ট্রের শিবনেরে শিবাজির জন্ম । তাঁর পিতা ছিলেন একজন শক্তিশালী মারাঠা সর্দার শাহজী ভোঁসলে এবং মাতা জিজাবাঈ অভিভাবক দাদাজি কোণ্ড দেবের মৃত্যুর ( 1647 সাল ) পর শিবাজি নিজ জমিদারির দায়িত্ব হাতে তুলে নেন । তাঁর গুরু ছিলেন রামদাস সমর্থ ।

📑 শিবাজি 1645-47 সালের মধ্যে রায়গড় , কোণ্ডনা ও তাের্ণা জয় করেন । 1656 সালে জাভলি দখল ছিল গুরুত্বপূর্ণ । 1659 সালে তিনি বিজাপুরের সেনাপতি আফজল খানকে হত্যা করেন । 1663 সালে শিবাজির নৈশ আক্রমণে মুঘল সেনাপতি শায়েস্তা খান পালাতে বাধ্য হন , কিন্তু পরে আরেক মুঘল সেনাপতি জয় সিং – এর কাছে পরাজিত হয়ে শিবাজি পুরন্দরের চুক্তি ( 1665 সালে ) স্বাক্ষরে বাধ্য হন ।

📑 1666 সালে আগ্রা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর 1674 সালের মধ্যে শিবাজি যেসব জায়গা পুরন্দরের চুক্তিতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন , তা পুনরুদ্ধার করেন । আওরঙ্গজেব তাকে তাচ্ছিল্য করে ‘ পার্বত্য মুষিক ’ বলতেন । কিন্তুু তাকে দমন করতে না পেরে তিনিই শিবাজীকে ‘ রাজা ‘ উপাধি দিতে বাধ্য হন । ‘ ছএপতি ’ ও ‘ গোব্রাহ্মণ প্রতিপালক ‘ উপাধি ধারণ করে 1674 সালে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেক হয় । শিবাজীর এক শক্তিশালী সেনাবাহিনী ছিল । অশ্বারােহী বাহিনী বার্গীর ও শিলাদার এই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল । বার্গীর – এর সামন্ত ব্যয় রাষ্ট্র বহন করত । শিলদারদের অস্ত্র , অশ্ব নিজে জোগাড় করতে হত 1680 সালে মৃত্যুর আগে তিনি জিঞ্জি ও ভেলাের পর্যন্ত জয় করেন ।

📑 শুধু সমরনায়ক নন , প্রশাসক হিসেবেও শিবাজি বিশেষ উল্লেখযােগ্য । সামরিক বাহিনীতে সংস্কার ছাড়াও শিবাজি রাজস্ব প্রশাসনের আমূল সংস্কার করেন । জমি জরিপ করে ভূমি রাজস্বের হার বাড়ানাে হয় , চৌথ ( এক – চতুর্থাংশ ) ও সরদেশমুখী ( এক – দশমাংশ ) কর আদায় করা হত মারাঠা ‘ স্বরাজ ’ – এর বাইরের অঞ্চল থেকে । সাধারণ প্রশাসনে রাজাকে সাহায্য করার জন্য আট মন্ত্রীর একটি পরিষদ গঠন করা হয় ( অষ্টপ্রধান ) , যাব প্রধান ছিলেন পেশােয়া বা প্রধানমন্ত্রী ‌।

📑 শিবাজীর মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন পুত্র শম্ভুজি । এই সময় বিদ্রোহী শাহাজাদা আকবরের পিতা আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে মারাঠাদের সাহায্য প্রার্থনা করে শম্ভুজির কাছে উপস্থিত হন । এই ঘটনায় আরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীতি নতুন মােড় নেয় । আহম্মদনগর থেকে তিনি নিজে মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন । 1689 সালে শম্ভুজি পরাজিত ও বন্দী হলে তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় । তার পরিবারবর্গ ও পুত্র শাহুও মুঘলদের হাতে বন্দী হন ।

📑 শিবাজীর অন্য পুত্র রাজারাম প্রথমে কর্ণাটকে , পরে জিঞ্জিতে ও শেষে সাতারায় পালিয়ে যান । মারাঠা শক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page