বৈদিক সভ্যতা

💠 বৈদিক সভ্যতা :

◼️ 1500 থেকে প্রায় 600 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সময়পূর্ব ভারতের হাতহাসে ‘বৈদিক যুগ’ হিসেবে পরিচিত । এই সময় উওর ভারতের ইতিহাসে উল্লেখযােগ্য পরিবর্তন দেখা দেয় এবং পরবর্তীকালের ভারতীয় সভ্যতা – সংস্কৃতির ভিওি অনেকাংশে এই সময়ই স্থাপিত হয় । এই সময়ের বিবরণ যেহেতু মূলত বৈদিক সাহিত্য থেকে পাওয়া যায় , তাই এই যুগ ইতিহাসে ‘ বৈদিক যুগ ’ রূপে পরিচিত । সাম্প্রতিককালে অবশ্য পাঞ্জাব , উত্তরপ্রদেশ ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে এই সময়কার পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে । পুরাতাত্ত্বিক দিক থেকে এর দ্বিতীয়ার্ধ ( 1000-500 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) চিত্রিত ধূসর মৃত্তিকা সংস্কৃতি ( Painted Greyware , PGW ) পর্বের অন্তর্গত ।


💠 আর্য সমস্যা :

◼️ বৈদিক সভ্যতার স্রষ্টারা ‘ আর্য ‘ নামে পরিচিত । কিন্তু আর্য কারা — সে বিষয়ে প্রভূত বিতর্ক রয়েছে ।

◼️ ষােড়শ শতকের এক ইতালীয় পন্ডিত ফিলিপ্পো সসেটি প্রথম লক্ষ করেন যে , সংস্কৃত ও ফার্সির সঙ্গে ইওরােপের প্রধান ভাষাগুলির সাদৃশ্য রয়েছে । অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে উইলিয়াম জোন্স নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেন যে , সংস্কৃত , ফার্সি , গ্রিক , ল্যাটিন , সেল্টিক , টিউটনিক ইত্যাদি একই ভাষাগােষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ।

◼️ ‘ আর্য ‘ কথাটির আক্ষরিক অর্থ ‘ উচ্চ বংশজাত ‘ । ম্যাক্সমুলারের মতে , আর্য বলতে বােঝায় একটি ভাষাগােষ্ঠী । আরেক জার্মান পণ্ডিত পেকা আর্য বলতে একটি জাতি বােঝায় মনে করতেন । আর্য কারা — এই প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিতর্কিত প্রশ্ন , আর্যরা আদিতে কোথাকার বাসিন্দা ছিল ? এ বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় — একদলের বক্তব্য , আর্যরা উত্তর – পশ্চিম ভারতের বাসিন্দা ছিল এবং অন্য গােষ্ঠীর বক্তব্য , আর্যরা মধ্য এশিয়া – পূর্ব ইওরােপ থেকে এসেছিল ।

◼️ সাধারণভাবে এটাই মনে করা হয় যে , আর্য ভাষাগােষ্ঠীভুক্ত মানুষেরা মধ্য এশিয়া অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসার পর , ইওরােপের দিকে একটি গােষ্ঠী এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দিকে আরেকটি গােষ্ঠী ছড়িয়ে পড়ে । আদিতে তাদের যে ভাষা ছিল , তা ক্রমবিবর্তিত হয়ে আর্য ভাষাগােষ্ঠীর প্রধান ভাষাগুলি সৃষ্টি হয় ।




◼️ বৈদিক সভ্যতার ভৌগােলিক সীমা :

ঋকবেদ – এ ‘ সপ্তসিন্ধু ’ অঞ্চলকে বাসস্থান বলে বর্ণনা করা হয়েছে । ‘ সপ্তসিন্ধু ‘ বলতে পাঞ্জাবের পাঁচটি নদী , সিন্ধু এবং সরস্বতীকে বােঝানাে হয় । তাছাড়া ঋকবেদ – এ উত্তর – পশ্চিমে ( আফগানিস্তানে ) গােমাল , কুররম্ , কাবুল , সােয়াট নদীর এবং পূর্বে যমুনার উল্লেখ রয়েছে । তাই পূর্ব আফগানিস্থান থেকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত এই সময়ে বসতি স্থাপিত হয়েছিল বলে মনে করা হয় ।


◼️ পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের বিভিন্ন নদী ও স্থানের নাম পাওয়া যায় । ‘শতপথ ব্রাহ্মণ’ – এ পূর্ব ও পশ্চিম সমুদ্রেরও উল্লেখ আছে । তাছাড়া রাজপুত্র বিদেঘ মাধবের গল্পে আর্যদের পূর্ব ভারতে প্রবেশের কথা বলা হয়েছে — সরস্বতী থেকে সদানীরা ( গন্ডক ) নদী পর্যন্ত রাজপুত্র অগ্নির সঙ্গে ( অর্থাৎ , আগুনের মাধ্যমে জঙ্গল পরিষ্কার করে ) গিয়েছিলেন ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page