বাংলা

💠 বাংলা :

◼️ হর্ষের সমসাময়িক বাংলার ( গৌড়ের ) রাজা ছিলেন শশাঙ্ক । তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ ( মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটির নিকটবর্তী কানসােনা ) । হর্ষের বিরুদ্ধে শশাঙ্কের সংগ্রামের কাহিনী ছাড়াও হিউয়েন সাং – এর বিবরণীতে শশাঙ্কের বৌদ্ধধর্ম – বিরােধী কার্যকলাপের উল্লেখ করা হয়েছে ।

◼️ খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী চারশাে বছর বাংলায় সিংহাসন ছিল পালবংশের দখলে । প্রচলিত কাহিনী অনুসারে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে বাংলায় ‘ মাৎস্যন্যায় ’ ( চূড়ান্ত অব্যবস্থা ; আক্ষরিক অর্থে যখন বড়াে মাছ ছােটো মাছকে খেয়ে নেয় ) চলছিল । সেই অব্যবস্থার হাত থেকে রেহাই পেতে অভিজাতরা গােপালকে রাজা নির্বাচিত করেন । গােপালই পালবংশের প্রতিষ্ঠাতা । গােপাল বৌদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর আমলেই এক বৌদ্ধ উপাসক ওদন্তপুরি বিহার নির্মাণ করেন । সাধারণভবে পাল শাসনে বৌদ্ধধর্মের বিশেষ পৃষ্ঠপােষকতা করা হয় ।

◼️ পালবংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন গােপালের উত্তরাধিকারী ধর্মপাল ( 775-812 খ্রিষ্টাব্দ ) । ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বে ( খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের শেষার্ধে কনৌজকে কেন্দ্র করে পাল , প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট এই তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘর্ষ ) লিপ্ত হওয়া ছাড়াও তিনি বাংলার বাইরে বহু বিজয় অর্জন করেছিলেন । বিখ্যাত বিক্রমশিলা বিহার তিনি নির্মাণ করেন । দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন । তাছাড়া ওদন্তপুরি ও সােমপুরি বিহার নির্মাণের জন্যও সম্ভবত তাঁর কৃতিত্ব প্রাপ্য । ধর্মপালের পর রাজা হন দেবপাল ( 812-850 খ্রিষ্টাব্দ ) । দেবপালও বিশেষ শক্তিশালী শাসক ছিলেন । তার সেনাপতি ছিলেন ‘ ধর্মমঙ্গল ’ খ্যাত লাউসেন । দেবপাল – এর আমলে আসাম ও উড়িষ্যাও পাল সাম্রাজ্যভুক্ত হয় । দেবপালের মৃত্যুর পর থেকেই পালবংশের অবনতির সূত্রপাত হয় ।

◼️ পরবর্তী পালরাজাদের শাসনকালে অন্তত দু’বার অন্য রাজ্যের সেনাবাহিনী বাংলা জয় করে । 1021-23 খ্রিষ্টাব্দে চোল সম্রাট রাজেন্দ্র চোলদেবের বাহিনী বাংলা জয় করে । এই বিজয়ের পর রাজেন্দ্র চোলদেব ‘ গঙ্গাইকোন্ড ’ উপাধি নেন । এছাড়া এর অল্পদিন পরেই কলচুরিরাজ গাঙ্গেয়দেবও বাংলা জয় করেন । মনে করা হয় যে প্রথম মহীপাল ( 992-1042 খ্রিষ্টাব্দ ) এই সব বিশৃঙ্খলার পথে পাল সাম্রাজ্যের হৃত মর্যাদা অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেন , তাই তাঁকে পাল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় । পালরাজা দ্বিতীয় মহীপালের আমলে ( 1085-86 খ্রিষ্টাব্দে ) দিব্য বা দিব্বোকের নেতৃত্বে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয় এবং কৈবৰ্তরা বরেন্দ্রের ( উত্তরবঙ্গ ) সিংহাসন লাভ করে । পাল রাজারা বিদ্যোৎসাহী ছিলেন । 1323 বঙ্গাব্দে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ঃ নামে একটি পুঁথি সংগ্রহ করেন । তারমধ্যে লুইপাদ , কাহ্নেপাদ , ভুষুকুপাদ প্রমুখ 22 জন নাথ – যােগী তান্ত্রিক বৌদ্ধাচার্যের 47 টি পদ রয়েছে । এই পদগুলির সংকলনকে বর্তমানে চর্যাপদ বা চর্যাগীতি বলা হয় । ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে , পদগুলি পালযুগেই ( একাদশ শতাব্দীতে ) রচিত এবং বাংলার সাহিত্য ভাষার আদিরূপ । বাংলা লিপির উদ্ভবও এই যুগেই হয়েছিল বলে মনে করা হয় । পালরাজা রামপালের ( 1092-1141 খ্রিষ্টাব্দে ) সভাকবি ছিলেন । সন্ধ্যাকর নন্দী , যিনি সংস্কৃত ভাষায় ‘ রামচরিত ’ রচনা করেন । আয়ুর্বেদশাস্ত্রজ্ঞ চক্রপাণি দত্ত , স্মার্তপণ্ডিত শ্ৰীকর , দার্শনিক – লেখক শ্রীধরভট্ট পালযুগে বর্তমান ছিলেন । চিত্র – ভাস্কর্য – স্থাপত্য শিল্পও পালযুগে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করে । যার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে পাহাড়পুর , ময়নামতী , রাজশাহী , পুণ্ড্রবর্ধন প্রভৃতি অঞ্চলে । ধীমান ও তার পুত্র বীতপাল এযুগের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিভাবান ও দক্ষ ছিলেন ।

◼️ পালবংশের অবনতির সুযােগে একাদশ শতাব্দীতে সেনবংশ বাংলায় একটি সাম্রাজ্য গড়ে তােলে । সেনরাজারা কর্ণাটক থেকে এসেছিলেন বলে মনে করা হয় । সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয়সেন ( 1095-1158 খ্রিষ্টাব্দ ) । বিজয়সেনের সাম্রাজ্যের বিস্তারের কাহিনী তাঁর সভাকবি উমাপতি ধর রচিত ‘ দেওপাড়া প্রশস্তি ’ থেকে জানা যায় । সেনবংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট হিসেবে বল্লালসেন ( 1158-1179 খ্রিষ্টাব্দ ) স্বীকৃত । তাঁর আমলে ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটে । ঐতিহ্য অনুসারে বল্লালসেনকে কৌলিন্যপ্রথার প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয় । বল্লালসেন ‘ অদ্ভুতসাগর ’ ও ‘ দানসাগর ’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন ।

◼️ বল্লালসেনের পর ক্ষমতা লাভ করেন লক্ষণসেন ( 1179-1207 খ্রীষ্টাব্দ ) । তাঁর সভায় গীতগােবিন্দ রচয়িতা জয়দেব , পবনদূত রচয়িতা ধোয়ী উপস্থিত ছিলেন । লক্ষণসেনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারক ছিলেন বিখ্যাত ব্রাহ্মণ পন্ডিত হলায়ুধ , যিনি ব্রাহ্মণসর্বস্ব ’ গ্রন্থ রচনা করেন । সর্বানন্দের ‘ টীকা – সর্বস্ব ‘ নামে অমরকোষের টীকা সমগ্র ভারতে আদৃত হত । স্মার্ত পণ্ডিত জীমূতবাহনের ‘ দায়ভাগ ’ হিন্দু – উত্তরাধিকার বিধান সংক্রান্ত প্রামাণ্যগ্রন্থ । এই সমস্ত কারণে তাই সেন যুগকে বাংলাদেশে সংস্কৃত সাহিত্যের সুবর্ণযুগ বলা হয় । পালযুগের শিল্পরীতি সেনযুগেও অনুসৃত হয় । এযুগের খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী ছিলেন শূলপাণি । তুর্কি সূত্র অনুযায়ী ( মিনহাজ – উস্ – সিরাজের তবাকৎ – ই – নাসিরি এবং ইসামির ফুতুহ‌্ – উস – সালাতিন ) 1202 খ্রিষ্টাব্দে ভাগ্যান্বেষী তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ারউদ্দিন বিন বখত‌্ – ইয়ার খিলজি মাত্র অষ্টাদশ অশ্বারােহী নিয়ে লক্ষণসেনের রাজধানী নদীয়া জয় করেন ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page