বাংলা

💠 বাংলা :

🔹ব্যক্তিয়ার খলজি এয়ােদশ শতকের সূচনায় বংলা জয় করলেও দিল্লি থেকে দূরত্বের কারণে বাংলার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা দিল্লির সুলতানদের পক্ষে প্রায়শই কঠিন হ’ত । শেষ পর্যন্ত 1338 সালে বাংলা দিল্লি থেকে পৃথক হয়ে যায় । তৎকালীন বাংলার দুই প্রধান শহর লখনৌতি ও সােনারগাঁও জয় করে 1342 সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সুলতান উপাধি ধারণ করেন । স্বয়ং ফিরোজ তুঘলক দু’বার নেতৃত্ব দেওয়া সত্ত্বেও ইলিয়াস শাহ বা তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহকে পরাস্ত করা দিল্লির বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয়নি ।

🔹ইলিয়াস শাহী বংশের সবচেয়ে বিখ্যাত সুলতান ছিলেন ঘিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ( 1389-1409 খ্রিষ্টাব্দ ) । বিখ্যাত ফার্সি কবি হাফিজ – সহ তাঁর সময়কার বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিদের সঙ্গে আজম শাহের যােগাযােগ ছিল । চীনের সম্রাটের দরবারে আজম শাহ দূত পাঠিয়েছিলেন এবং এক চৈনিক রাজদূতও আজম শাহের দরবারে আসেন । চৈনিক দূতের সঙ্গে আগত অনুবাদক মা – হুয়ান তৎকালীন বাংলার বিবরণ লিখে গেছেন । চীনের সঙ্গে যােগাযােগের ফলে বাংলার বাণিজ্য বিশেষ লাভবান হয় এবং এই বাণিজ্যের কেন্দ্র রূপে চট্টগ্রাম বন্দর বিশেষ সমৃদ্ধি অর্জন করে ।


💠 চৈতন্যদেব :

🔹চৈতন্যদেব ( 1485-1533 ) ছিলেন উত্তর ও পূর্ব ভারতের ভক্তিবাদী আন্দোলনের অন্যতম পুরােধা ! তার জন্ম 1485 সালে নবদ্বীপের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে । বাবার নাম জগন্নাথ মিশ্র , মা শচীদেবী । পত্নীর নাম বিষ্ণুপ্রিয়া । 24 বছর বয়সে চৈতন্য গৃহত্যাগ করেন এবং কাটোয়ায় কেশব ভারতীর কাছে সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নেন । তিনি উড়িষ্যা , বারানসী , দক্ষিণ ভারত , বৃন্দাবন , গৌড়বাংলায় সাফল্যের সঙ্গে তার ভক্তিবাদ বা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মমত জাতি – ধর্ম নির্বিশেষে প্রচার করেন । মাত্র 48 বছর বয়সে 1533 খ্রিষ্টাব্দে পুরীতে তিনি দেহত্যাগ করেন ।

🔹ইলিয়াস শাহ সুলতানরা ধর্মীয় দিক থেকে সহিষ্ণু ছিলেন এবং অনেক হিন্দুই ক্ষমতাশালী ছিলেন । পরবর্তীকালের দুর্বল সুলতানদের আমলে এদের মধ্যেই একজন রাজা গণেশ অল্পসময়ের জন্য বাংলার সিংহাসনও দখল করেন । শেষ পর্যন্ত 1493 সালে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার মসনদ দখল করেন । এরপর থেকে হুসেন শাহী বংশ শের শাহের বাংলা বিজয় পর্যন্ত নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখে । বাংলার ইতিহাসে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ( 1493-1518 ) এবং তার পুত্র নুসরত শাহ ( 1519-1533 ) বিশেষ স্মরণীয় । সামরিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে একটি শক্তিশালী রাজ্য গড়ে তােলা ছাড়াও বাংলার মিশ্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পৃষ্টপােষকতায় তাঁদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল । এর আগে থেকেই গৌড় ও পান্ডুয়ায় বাংলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ স্থাপত্যের সূচনা হয় , যা হুসেন শাহী আমলে আরও বিস্তৃত হয় । গৌড় – পান্ডুয়ায় সুলতানি যুগের প্রধান স্থাপত্য কীর্তির মধ্যে ছিল আদিনা মসজিদ , বড়াে সােনা মসজিদ ও ছোটো সােনা মসজিদ , দাখিল দরওয়াজা ইত্যাদি । এর মধ্যে আদিনা মসজিদ তৈরি হয় ইলিয়াস শাহী বংশীয় সুলতান সিকান্দর শাহের আমলে । অন্যদিকে ছােটো সােনা মসজিদ নির্মিত হয় হুসেন শাহের পৃষ্ঠপােষকতায় । এবং তার পুত্র – নসরৎ শাহের আমলে তৈরি হয় বড় সােনা মসজিদ , কদম রসুল , এক লাখি মসজিদ প্রভৃতি । শেষােক্তটি পাণ্ডুয়ায় প্রায় এক লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুলতান হুসেন শাহের সমাধির উপর নির্মিত হয় । হুসেন শাহর রাজত্বকালেই চৈতন্যদেবের আবির্ভাব ঘটে এবং তাকে কেন্দ্র করে বাংলার ধর্মীয় , সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বিরাট পরিবর্তন লক্ষ করা যায় । ইলিয়াস শাহী সুলতানি আমলে রুকনউদ্দিন বরবক শাহ – র পৃষ্ঠপােষকতায় কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রামায়ণ রচনা করেন । হুসেন শাহ শুধু চৈতন্যের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেননি , তাঁর সর্বোচ্চ পদাধিকারীদের মধ্যে ছিলেন রূপ ও সনাতন গােস্বামী – সহ বহু হিন্দু । কৃত্তিবাসের অন্যতম পৃষ্ঠপােষক ছিলেন সনাতন গােস্বামী । হুসেন শাহের আমলেই হিন্দুদের দেবতা সত্যনারায়ণ ও মুসলমানদের পীরের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্যপীর পূজার প্রচলন হয় । এই সময়ই শ্রীকৃষ্ণবিজয় রচনা করেন মালাধর বসু , যাঁকে সুলতান গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন । কবীন্দ্র পরমেশ্বর সুলতানের সেনাপতি পরাগল খার পৃষ্ঠপােষকতায় সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত বাংলা ভাষায় তানুবাদ করেন , যা পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত । বরিশালের বিজয়গুপ্তের পদ্মপুরাণ বা মনসামঙ্গল সুলতানি আমলের আর এক বিশিষ্ট সাহিত্য কীর্তি ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page