প্রতিবাদী ধর্ম

💠 প্রতিবাদী ধর্ম :

◼️ পরবর্তী বৈদিক যুগের আচার – আচরণ সর্বস্ব ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিক্রিয়া দেখা যায় উপনিষদে ।

◼️ 600-500 খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ বৃহৎ সংখ্যক সন্ন্যাসী( শ্রমণ , পরিব্রাজক ) বৈদিক ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে প্রচার চালান । তারা দেব ও ব্রাহ্মণের একাধিপত্য অস্বীকার করেন ; কর্মফল , অহিংসা এবং সীমিত আচার – আচরণের মাধ্যমে সরল ধর্ম পালনের কথা বলেন । পরবর্তীকালে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভক্তির ধারণা । এর ফলে চারটি প্রধান ধর্মীয় গােষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে — বৌদ্ধ , জৈন , শৈব ও বৈষ্ণব । বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উদ্ভবের আগে কিছুকাল নিরীশ্বরবাদী একটি গােষ্ঠী জনপ্রিয় হয়েছিল — তারা আজিবিক নামে পরিচিত ।


◼️ মহাবীর বর্ধমান :

🔹জৈনধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বর্ধমানের জন্ম হয় 540 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে , বৈশালীর নিকটবর্তী কুন্দপুর / কুন্দগ্রাম – এ । তাঁর পিতা সিদ্ধার্থ ছিলেন জ্ঞানত্রিক গােষ্ঠীর অধিপতি আর মাতা ত্রিশলা লিচ্ছবি রাজকন্যা । বর্ধমানের বিবাহ হয় যশােদার সঙ্গে এবং তাদের কন্যাসন্তান অনােজ্জা বা প্রিয়দর্শনা নামে পরিচিত ছিল ।

🔹জৈন ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী , মহাবীর ছিলেন 24 – তম ও শেষ তীর্থঙ্কর । প্রথম তীর্থঙ্কর ছিলেন ঋষভদেব । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থঙ্কর ছিলেন , 23 – তম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ ।

🔹বর্ধমান ত্রিশ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন । পরবর্তী 12 বছর তিনি কঠোর তপস্যায় নিরত থাকেন । এই সময় তিনি তাঁর বেশভূষা কখনও পরিবর্তন করেননি এবং পরে আবরণ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করেন । 13-৩ম বছরে জৃমভিকাগ্রাম – এর নিকটে ঋজুপালিকা নদীর তীরে একটি শাল বৃক্ষের তলায় তিনি ‘ কেবল জ্ঞান ‘ বা ‘ কৈবল্য ‘ লাভ করেন । এরপর থেকে তিনি ‘ কেবলীন ’ , ‘ জিন ’ ( জয়ী ) , ‘ মহাবীর ‘ ( মহান নায়ক ) এবং ‘ নির্গ্রন্থ ‘ ( বন্ধনমুক্ত ) নামে পরিচিত হন । পাওয়াপুরীতে , 72 বছর বয়েসে , 468 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মহাবীর প্রয়াত হন ।


🔹আচার – অনুষ্ঠান এমনকি ভগবানের ধারণাও জৈনদের কাছে অপ্রয়ােজনীয় তার বদলে কর্মফলবাদে বিশ্বাস , অহিংসা , প্রকৃত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ‘ জিন ‘ হওয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ ।

🔹পার্শ্বনাথের চারটি প্রতিজ্ঞা — সত্য , অহিংসা , অসত্য ( চুরি না করা ) এবং অপরিগ্রহ ( সম্পত্তি অর্জন না করা ) – এর সঙ্গে মহাবীর ‘ ব্রহ্মচর্য ‘কেও যােগ করেন ।

🔹জৈনধর্মের ‘ ত্রিরত্ন ‘ — সঠিক বিশ্বাস , সঠিক আচরণ , সঠিক জ্ঞান ।

🔹জৈনধমের প্রথম সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয় স্থলবাহুর নেতৃত্বে পাটলিপুত্রে ( আনুমানিক 300 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ) । এই সভায় জৈনধর্ম দু’টি শাখায় — শ্বেতাম্বর ও দিগম্বর – ভাগ হয়ে যায় । দ্বিতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয় 512 খ্রিষ্টাব্দে বল্লভী – তে ।


◼️ গৌতম বুদ্ধ :

🔹নেপালের তরাই অঞ্চলের কপিলাবস্তুতে শাক্যবংশে সিদ্ধার্থ নামে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয় 568 থেকে 563 খ্রিষ্টপূর্বাপের মধ্যে কোনও এক সময় । তাঁর পিতা শুদ্ধোদন ছিলেন কপিলাবস্তুর নির্বাচিত রাজা । মাতা মায়াদেবী সিদ্ধার্থের জন্মকালেই মারা যান । মাসি ও বিমাতা গৌতমী তাঁকে বড়ো করেন , তাই তিনি গৌতম নামে পরিচিত হন । যশােধরা ছিলেন গৌতমের পত্নী , কিন্তু পুত্র রাহুলের জন্মের রাতেই গৌতম গৃহত্যাগ করেন ( মহাভিনিষ্ক্রমন নামে পরিচিত ঘটনাটি ) ।

🔹6 বছর তপস্যার পর 35 বছর বয়েসে নৈরঞ্জনা নদীর তীরে বুদ্ধগয়ার একটি পিপল বৃক্ষের তলায় গৌতম চূড়ান্ত জ্ঞান অর্জন করেন । বেনারসের নিকটে সারনাথের মৃগদ্যানে ( মৃগদাব ) গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মমত প্রচার করেন ( ধর্মচক্র প্রবর্তন ) । 80 বছর বয়েসে ( 480 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ) গৌতম বুদ্ধ কুশীনগরে প্রয়াত হন ( মহাপরিনির্বাণ ) ।


🔹বুদ্ধের মতে, জীবনের সারমর্ম চারটি ‘ আর্যসত্য ‘ – এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় ।

1. দুঃখ আছে ।
2. আমাদের বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা বা লােভই দুঃখের কারণ ।
3. দুঃখ নিবৃত্তির উপায় এই সব আকাক্ষা পরিত্যাগ করা ।
4. একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণের মাধ্যমে এই নিবৃত্তি সম্ভব ।

🔹এই নির্দিষ্ট পথকে বলা হয় ‘ অষ্টাঙ্গিক মার্গ ‘ :-
— সঠিক পর্যবেক্ষণ ,
— সঠিক ধারণা ,
— সঠিক কর্ম ,
— সঠিক জীবনযাত্রা ,
— সঠিক অনুশীলন ,
— সঠিক চিন্তা ,
— সঠিক চেতনা ।


🔹বৌদ্ধ মতে , ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়ে ‘মধ্যপন্থা’ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে । বৌদ্ধধর্মেও কর্মফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ভগবানের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়নি । বৌদ্ধধর্মে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ‘ নির্বাণ ’ অর্জন করা , অর্থাৎ জন্ম – মৃত্যু – পুনর্জন্মের চক্র থেকে অব্যাহিত ।

🔹বৌদ্ধ ও জৈন — উভয় ধর্মেই আচারসর্বস্ব ধর্মাচরণ ও ব্রাহ্মণ আধিপত্যের কঠোর সমালােচনা করা হয়েছে , যদিও সরাসরি উভয় ধর্মেই জাতি ব্যবস্থাকে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়নি । উভয় ধর্মই যথেষ্ট উদার ছিল , তাও বৌদ্ধরা সম্ভবত বেশি উদার ছিলেন ; কারণ বুদ্ধের সময়ই ( বিমাতা গৌতমীর অনুরােধে ) মহিলাদের সংঘে গ্রহণ করা হয়।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page