পরবর্তী বৈদিক যুগ

💠 পরবর্তী বৈদিক যুগ ( 1000 – 600 ) খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ) :

◼️ ঋকবেদের পরবর্তী বৈদিক সাহিত্যের মধ্যে রয়েছে সামবেদ , যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ এবং ব্রাহ্মণ , অরণ্যক ও উপনিষদ । উচ্চ-গঙ্গা অববাহিকা অঞ্চলে 1000 থেকে 600 খ্রিষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে এইসব সাহিত্য রচিত । এই সময়কার সভ্যতা ও সংস্কৃতি ‘ পরবর্তী বৈদিক সভ্যতা ‘ রূপে পরিচিত । আগেই যেমন বলা হয়েছে , পুরাতাত্ত্বিক দিক থেকে এই সময়কে ‘ চিত্রিত ধূসর মৃত্তিকা সংস্কৃতি ‘ বলা হয় ।


◼️ সমাজ :

🔹সমাজের একক হিসেবে পরিবার রয়ে যায়, যদিও পরিবার প্রধানের ক্ষমতা হাস পায় । সমাজে নারী মার্যাদা এবং অবস্থানেরও অবনতি দেখা যায় । প্রতীকী অর্থে ‘ সতী’র ব্যবস্থা চালু হয়ে গিয়েছিল । ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , বৈশ্য ও শুদ্র — এই চারটি বর্ণের মধ্যে প্রথম তিনটি বর্ণের উপনয়নের ও যজ্ঞোপবীত ধারণের অধিকার ছিল । মনে করা হত যে উপনয়নের মাধ্যমে তাদের দ্বিতীয় জন্মলাভ ঘটত ( দ্বিজ ) । এই চারটি বর্ণের বাইরে ব্রাত্য ও নিষাদদের উল্লেখ পাওয়া যায় ।


🔹প্রথম তিনটি বর্ণের জীবনযাত্রা প্রণালী নিয়ন্ত্রণে প্রথমবার ‘ চতুরাশ্রম ’ ব্যবস্থার উল্লেখ পাওয়া যায় । জবালা উপনিষদ – এ প্রথম স্পষ্ট করে জীবনের চারটি পর্ব বা আশ্রমের — ব্রহ্মচর্য , গার্হস্থ্য , বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস — করণীয় ও লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে । তাছাড়া আট রকমের বিবাহ , গােত্র ব্যবস্থা ইত্যাদিরও উল্লেখ এই সময় থেকেই পাওয়া যায় ।

◼️ রাজনৈতিক ব্যবস্থা :

🔹সভা ও সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায় , পরিবর্তে রাজার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় । রাজতন্ত্র ক্রমশ বংশগত হয়ে ওঠে । রাজারা অশ্বমেধ , বাজপেয় , রাজসূয় ইত্যাদি যজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের মহিমা বিস্তারের চেষ্টা করতেন ।

🔹রাজ্যের আকারও বৃদ্ধি পায় । ‘রাষ্ট্র’ কথাটির ব্যবহার ( প্রধানত ভূমিগত অর্থে ) দেখা যায় । এখনও কোনও স্থায়ী সেনাদল ছিল না । তবে প্রশাসন বিস্তৃত হয় । কর ব্যবস্থারও কিছু নমুনা পাওয়া যায় ।


◼️ অর্থনীতি :

🔹লােহার ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির উল্লেখযােগ্য অগ্রগতি ঘটে যবের বদলে চাল ও গম প্রধান খাদ্যশস্য হয়ে ওঠে ।

🔹মৃৎশিল্প , লৌহশিল্প ও অন্যান্য শিল্পোৎপাদনের উদাহরণ পাওয়া যায় । বৈশ্যরা দূরবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যে লিপ্ত হতেন । বিনিময়ের মাধ্যমরূপে শতমান , নিষ্ক ও কৃষ্ণলাল নামক মুদ্রার কথা জানা যায় । ঋকবৈদিক সভ্যতা ছিল সম্পূর্ণভাবে গ্রামকেতিক , কিন্তু বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে এই সময় নগরায়নের সূচনা হয় ।

◼️ ধর্ম :

🔹ঋকবৈদিক ধর্মের জায়গা নেয় আচারসর্বস্ব ধর্মাচরণ । যাগযঞ্জ , বলি ক্রমশ ধর্মের মূল বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে । ইন্দ্র , অগ্নি প্রমুখ দেবতার জাগায় মুখ্য দেবতা হয়ে ওঠেন প্রজাপতি ।

🔹কিন্তু আচারসর্বস্ব এই ধর্মাচরণ , বিশেষত প্রচুর সংখ্যক পশুবলির বিরুদ্ধে এই সময় থেকেই প্রতিবাদ দেখা দেয় । এর পরিবর্তে সরল একেশ্বরবাদ ও অনাড়ম্বর জীবনদর্শনের কথা উপনিষদে প্রতিফলিত হয়েছে ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page