দক্ষিণ ভারত

💠 দক্ষিণ ভারত :

◼️ ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বের অন্যতম শরিক রাষ্ট্রকূট বংশের শ্রেষ্ঠ দুই রাজা ছিলেন তৃতীয় গােবিন্দ ও তৃতীয় কৃষ্ণ । তৃতীয় গােবিন্দ শক্তিশালী গংগ রাজ্যের বিদ্রোহ দমন করেন । রাষ্ট্রকূট বংশের রাজা প্রথম কৃষ্ণের অনুপম স্থাপত্য কীর্তি হল ইলােরার বিখ্যাত কৈলাসনাথ মন্দির । এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন দ্বিতীয় কর্ক । তিনি চালুক্যরাজ দ্বিতীয় তৈলগের কাছে পরাজিত হলে ( 973 সাল ) দাক্ষিণাত্যে আবার চালুক্য প্রাধান্য স্থাপিত হয় ।

◼️ বাতাপি বা বাদামিতে চালুক্য বংশের আধিপত্যের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম পুলকেশী । তবে এই বংশের শ্রেষ্ঠ নরপতি ছিলেন তার পৌত্র দ্বিতীয় পুলকেশী ( 609-642 খ্রীষ্টাব্দ ) । তিনি আইহােল শিলালেখ উৎকীর্ণ করান । দ্বিতীয় পুলকেশী প্রায় সমগ্র দক্ষিণ ভারতের একচ্ছত্র সম্রাটে পরিণত হয়েছিলেন যুদ্ধজয়ের মাধ্যমে । পরে পল্লব রাজ প্রথম মহেন্দ্রবর্মনের পুত্র নরসিংহ বর্মন চালুক্য রাজ্য আক্রমণ করে বাতাপি বিধ্বস্ত করেন । দ্বিতীয় পুলকেশী পরাজিত ও নিহত হন ।

◼️ বস্তুত খ্রিষ্টীয় সপ্তম – অষ্টম শতাব্দীতে দাক্ষিণাত্যের চালুক্য শক্তির সঙ্গে সুদূর দক্ষিণের পল্লবদের সংঘর্ষ প্রায় একশাে ত্রিশ বছর ধরে চলেছিল । পল্লব রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সিংহবিষ্ণুর পুত্র প্রথম । মহেন্দ্রবর্মনের রাজত্বকাল থেকে এই সংঘর্ষের শুরু । তাকে পরাজিত করে চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশী , 610 সালে বেঙ্গী অধিকার করেন । 642 সালে দ্বিতীয় পুলকেশীকে নিহত করে নরসিংহ বর্মন সাময়িকভাবে সমগ্র দক্ষিণ ভারতে পল্লব প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করেন । এর কয়েক বছর পরে চালুক্যরাজ প্রথম বিক্রমাদিত্য পল্লব রাজ্য আক্রমণ করে সেখানকার রাজা পরমেশ্বর বর্মনকে পরাজিত করেন এবং পল্লব রাজধানী কাঞ্চী অধিকার করেন ( 655 সাল ) । 740 সালে পল্লবরাজ নন্দীবর্মনকে পরাজিত করে প্রসিদ্ধ চালুক্যরাজ ষষ্ঠ বিক্রমাদিত্য ফের একবার কাঞ্চী অধিকার করেন । পল্লব রাজ্যের পতন দ্রুত হয় ।

◼️ পল্লব রাজারা সকলেই ব্রাহ্মণ্য ধর্মাবলম্বী এবং স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন । কাঞ্চীর কৈলাসনাথের মন্দিরটি পল্লব শিল্পের উল্লেখযােগ্য নিদর্শন । পল্লবরাজ নরসিংহবর্মন মহাবলীপুরমে পাহাড় কেটে রথের আকৃতিবিশিষ্ট ‘ সপ্তরথ ’ মন্দির নির্মাণ করেন । পল্লব আমলে কাঞ্চী ছিল সংস্কৃত সাহিত্যের এক প্রধান কেন্দ্র । মহাকবি ভারবি , অলঙ্কারশাস্ত্রী দন্ডী প্রমুখ ছিলেন এই যুগের উজ্জ্বল রত্ন । তামিলভাষায় রচিত ‘ মত্তবিলাসেগ্রহসনম ‘ নামক নাটকটির রচয়িতা ছিলেন পল্লরাজ মহেন্দ্রবর্মন । তাকে ‘ দাক্ষিণাত্যের সমুদ্রগুপ্ত ও বলা হত , বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হওয়ার দরুন ।

◼️ দক্ষিণ ভারতের পান্ড্য , চের , করল প্রভৃতি রাজ্য জয়ের পাশাপাশি কল্যাণের চালুক্যদের রাজ্য আক্রমণ করে ছারখার করে দেন সুপ্রসিদ্ধ চোলরাজ রাজরাজ । 985 খ্রিষ্টাব্দে তিনি যখন তাঞ্জোরের সিংহাসনে আহরণ করেন , প্রকৃতপক্ষে তখন থেকেই চোল বংশের গৌরবের যুগ আরম্ভ হয় । রাজরাজ এক শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন করে তার সাহায্যে সিংহল দ্বীপের উত্তরাংশ , মালদ্বীপ ও লাক্ষাদ্বীপ নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেন । চোল বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন রাজরাজের পুত্র প্রথম রাজেন্দ্র । দক্ষিণ ভারতের সার্বভৌম সম্রাটরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর উত্তর ভারত অভিযানে উদ্যোগী হন । তার বাহিনী কলিঙ্গ , দক্ষিণ কোশল জয় করার পর বাংলার পালরাজ মহীপালদেব ও রাঢ়ের শূররাজ রণশূরও এই বাহিনীর কাছে পরাজয় স্বীকার করে । এরপরই তিনি ‘ গঙ্গাইকোন্ড ’ ( অর্থাৎ গঙ্গ বা গঙ্গাবিজয়ী ) উপাধি ধারণ করেন ।

◼️ দক্ষিণ ভারতের শিল্পরীতির চরম উৎকর্ষের পরিচয় পাওয়া যায় চোলযুগের শিল্পের মধ্যে । চোল মন্দিরগুলি ছিল আকৃতিতে বিশাল এবং তার গােপুরম বা তোরণগুলি ছিল আকাশছোঁয়া । তাঞ্জোরের বিখ্যাত রাজরাজেশ্বর মন্দির নির্মিত হয় চোলরাজ রাজরাজের রাজত্বকালে । এই মন্দিরে যে ব্রোঞ্জের নটরাজ মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত , তা ওই যুগের ধাতুশিল্পীদের দক্ষতার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন । গাঙ্গেয় অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্মারকরূপে রাজেন্দ্র চোলদেব ‘ গঙ্গাইকোন্ডচোলপুরম ’ নামে নতুন নগরী তথা রাজধানী স্থাপন করেন ।

◼️ খ্রীষ্টীয় একাদশ শতকে ‘ প্রাচ্য গঙ্গ ’ বংশীয় রাজারা উড়িষ্যায় রাজত্ব করতেন । এই বংশের শক্তিশালী ও শিল্প অনুরাগী রাজা অনন্তবর্মন

চোড়নাঙ্গ – এর রাজত্বকালে পুরীতে জগন্নাথদেবের বিখ্যাত মন্দিরটি নির্মিত হয় । কোণারকের বিখ্যাত সূর্য মন্দিরটিও এই বংশেরই রাজা নরসিংহবর্মন – চোড়গঙ্গের রাজত্বকালেই ( ত্রয়ােদশ শতক ) নির্মিত হয় । তবে উড়িষ্যার মন্দির নগরী ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মন্দিরটি তৈরি হয় গঙ্গবংশীয়দের পূর্ববর্তী কর – রাজবংশের রাজত্বকালে ।

◼️ খ্রিষ্টীয় দশম – একাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জেজাকভুক্তি ( বুন্দেলখণ্ড ) -তে যশােবর্মন , ধঙ্গ , গন্ড , কীর্তিবৰ্মন প্রমুখ চন্দেল্ল বংশীয় রাজারা পর পর রাজত্ব করেন । খাজুরাহাের বিখ্যাত মন্দিরগুলি তাদের আমলেই নির্মিত ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page