আওরঙ্গজেব ( 1685-1707 খ্রিষ্টাব্দ )

📚 আওরঙ্গজেব ( 1685-1707 খ্রিষ্টাব্দ ) : এক রক্তাক্ত উত্তরাধিকারের যুদ্ধের পর আওরঙ্গজেব সম্রাট হন । আওরঙ্গজেব ও মুরাদ মিলে দারাকে ধর্মাটের যুদ্ধে ( 1658 সাল ) পরাজিত করেন । মুরাদকে পরে আওরঙ্গজেব বন্দী করে হত্যা করেন । সুজা খাজোয়ার যুদ্ধে ( 1659 সাল ) পরাজিত হয়ে আরাকানে পালিয়ে যান । দারা পুনরায় সামুগড়ের যুদ্ধে ও দেওরাইয়ের যুদ্ধে পরাজিত হন এবং আওরঙ্গজেব তাঁকেও হত্যা করেন । অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা শাহজাহানকে আগ্রা দুর্গে বন্দী করে আওরঙ্গজেব আলমগীর উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন ।

📑 নিঃসন্দেহে আওরঙ্গজেব ছিলেন একজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ সমরনায়ক ও প্রশাসক । তাঁর আমলেই মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তারের চরম শিখরে পৌঁছেছিল — সাম্রাজ্য উত্তরে কাশ্মীর থেকে দক্ষিণে জিঞ্জি , পশ্চিমে হিন্দুকুশ থেকে পূর্বে আসাম – চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল । সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনে বিশ্বাসী আওরঙ্গজেব ( যে কারণে তাকে জিন্দাপীর বলা হত ) সাম্রাজ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে জীবন উৎসর্গ করলেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে প্রস্তুত ছিলেন না ।

📑 রাজপুতদের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে বিরােধ , জিজিয়া পুনঃআরােপ ইত্যাদি কারণে সাম্রাজ্যের সমর্থনভিত্তি সংকুচিত হতে থাকে । উওর ভারতে একের পর এক বিদ্রোহ দেখা দেয় — শিখ , জাঠ ও সতনামি বিদ্রোহ । তাছাড়া সাম্রাজ্যের আর্থিক সংকটে পুরােনাে অভিজাতদেরও স্বার্থহানি ঘটে ।

📑 আওরঙ্গজেবের সবচেয়ে বড়াে সমস্যা ছিল দাক্ষিণাত্য । বিজাপুর ও গােলকুণ্ডা সাম্রাজ্যভুক্ত করায় সাম্রাজ্যের আয়তন ও সমস্যা — উভয়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় । আওরঙ্গজেব মারাঠা বিদ্রোহের চরিত্র অনুধাবনেও ব্যর্থ হয়েছিলেন । অল্পদিনেই তিনি এই বিদ্রোহ দমন করতে পারবেন এবং দাক্ষিণাত্য সমস্যা সমাধান করতে পারবেন ভেবে আওরঙ্গজেব স্বয়ং দাক্ষিণাত্যে যান । কিন্তু
একের পর এক সমস্যায় জর্জরিত সম্রাট জীবনের শেষ 27 বছর দাক্ষিণাত্যেই কাটাতে বাধ্য হন । এর ফলে দাক্ষিণাত্যের সমস্যার অবসান ঘটেনি , উপরন্তু উত্তর ভারতে সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে । ফরাসি সম্রাট নেপােলিয়ন সম্পর্কে যেমন বলা হয় ‘ স্পেনীয় ক্ষত ’ – ই তার ধ্বংসের কারণ । আওরঙ্গজেব সম্পর্কেও সেরকম বলা হয় , ‘ দাক্ষিণাত্য ক্ষত’ই তার শােচনীয় পরিণতির কারণ ।

📑 আওরঙ্গজেবের কঠোর অনুশাসনমূলক নীতির ফলে মুঘল দরবারি সংস্কৃতি – সংগীত , চিত্রকলা ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় । 1707 সালে আওরঙ্গজেব মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সাম্রাজ্যের গৌরবময় যুগ শেষ হয়ে যােয় ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page