মেসােপটেমীয় – ক্যালডীয়দের পরিচয়

💠মেসােপটেমীয় – ক্যালডীয়দের পরিচয় :

৬১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এ্যাসিরীয়দের পতন এবং ক্যালডীয়দের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মেসােপটেমীয় সভ্যতা চূড়ান্ত পর্বে উন্নীত হয় । মেসােপটেমিয়ার দক্ষিণ – পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তােলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত । এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবােপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তােলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত । এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযােগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদ নেজার । তাঁর রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত । হাম্মুরাবির পর থেকে প্রায় এক হাজার বছরব্যাপী যুদ্ধ বিগ্রহ আর হানাহানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেসােপটেমিয়া । নেবুচাঁদ নেজারের হাতে ব্যাবিলন আবার শক্তি ফিরে পায় । সিরিয়া অধিকার করে রাখা মিশরীয়দের তিনি তাড়িয়ে দেন । নেবুচাঁদ নেজার খুব কঠোর শাসক ছিলেন । তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি জেরুজালেম নগরী খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ধ্বংস করে দেন এবং ইহুদি অধিবাসীদের বন্দি করে খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলনে আটকে রাখেন । ইতিহাসে এর নাম ‘ ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা ‘ । খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ।



সভ্যতায় ক্যালডীয়দের অবদান :
সভ্যতার ইতিহাসে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ক্যালডীয়দের অবদান লক্ষ্য করা যায় । তাদের সভ্যতার বিভিন্ন দিক নিম্নরূপ :

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ :
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহণ করেছিল ক্যালডীয়রা । সেই সাথে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার সংযােগ তাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল । ক্যালডীয় সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের সময় ব্যাবিলন শহর খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয় । পুরাে শহর ঘিরে ৫৬ মাইল লম্বা দেয়াল তৈরি হয় । চার ঘােড়ার রথ চলতে পারে এমন চওড়া ছিল রাস্তা । শহরের মাঝখানে ছিল প্রকাণ্ড তােরণ । দেবী ইস্টারের স্মরণে তৈরি এই তােরণের নাম রাখা হয় ‘ ইস্টার তােরণ ‘ বা ‘ ইস্টার গেট ‘ । তােরণের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া লম্বা রাস্তাটির নাম ছিল ‘ মিছিল সড়ক ’ । সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের রানি বাগান করতে খুব পছন্দ করতেন । তাঁরই উৎসাহে সম্রাট নগর দেয়ালের উপরে তৈরি করলেন আশ্চার্য সুন্দর এক বাগান । ইতিহাসে যা ‘ শূন্য উদ্যান ‘ নামে পরিচিত । ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ।


ধর্মীয় বিশ্বাস :
ক্যালডীয়রা আকাশের বিভিন্ন গ্রহকে দেবতা ভাবত । বৃহস্পতি বা জুপিটার গ্রহ ছিল প্রধান দেবতা । তাকে তারা মারডক নাম দেয় । তারা ভাগ্যে বিশ্বাসী ছিল । ব্যাবিলন শহরে বেশ কিছু ধর্মমন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া যায় । ধর্মে নৈতিকতার কোন স্থান ছিল না ।


জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের অবদান :
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিশেষত জ্যোতির্বিদ্যায় তাদের যথেষ্ট অবদান লক্ষ্য করা যায় । ধর্মীয় কারণে তারা গ্রহ – নক্ষত্র নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে । তাই জ্যোতির্বিদ্যায় তারা হয়ে উঠেছিল দক্ষ । ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে । আবার প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে । বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে । এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২ টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান । তা থেকে ১২ টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয় ।



ক্যালডীয় সভ্যতা – সভ্যতার মধ্যে অন্যতম । এরা – শহরকে কেন্দ্র করে মেসােপটেমিয়ায় প্রভুত্ব বিস্তার ঘটায় । ব্যাবিলন শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠায় ক্যালডীয় সভ্যতা ইতিহাসে —- সভ্যতা হিসেবেও পরিচিত । সম্রাট – গড়ে তুলেছিলেন এ সভ্যতা । সম্রাট নেবুচাদ নেজারের রাজত্বকাল ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০৪ থেকে ৫৬১ অব্দ পর্যন্ত । হাম্মুরাবির পর থেকে প্রায় — বছরব্যাপী যুদ্ধ – বিগ্রহ আর হানাহানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল মেসােপটেমিয়া । নেবুচাদ নেজারের হাতে ব্যাবিলন আবার শক্তি ফিরে পায় । সিরিয়া অধিকার করে রাখা – তিনি তাড়িয়ে দেন । নেবুচাদ নেজার খুব কঠোর শাসক ছিলেন । তার শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করায় তিনি নগরী খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ অব্দে ধ্বংস করে দেন এবং == করে খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলনে আটকে রাখেন । ইতিহাসে এর নাম ‘ ব্যাবিলনীয় বন্দিদশা ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page