বিজয়নগর রাজ্য

💠 বিজয়নগর রাজ্য :

🔹খ্রিষ্টীয় চতুর্দশ শতকের তৃতীয় দশকে বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেঙ্গানায় তুঙ্গভদ্রা নদীর দক্ষিণ তীরে বিজয়নগরে কাপায় । নায়ক নামে এক হিন্দু প্রাদেশিক শাসনকর্তা একটি হিন্দু রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন । তাকে পরাজিত করে মহম্মদ – বিন – তুঘলক ওই অঞ্চলের শাসনকর্তা নিয়োগ করেন যাদব – বংশীয় হরিহর রায়কে । পরে স্বাধীনতা ঘােষণা করে হরিহর ও তার ভাই বুক্কা রায় সেখানে স্বাধীন বিজয়নগর রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন 1336 খ্রিষ্টাব্দে । তাদের পিতার নাম ছিল সঙ্গম , তাই হরিহর , বুক্কা প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ সঙ্গম বংশ নামে পরিচিত ।

🔹সঙ্গম বংশ প্রায় দেড়শাে বছর ধরে ( 1336-1486 খ্রিষ্টাব্দ ) রাজত্ব করে । এরপর প্রায় 60 বছর ( 1446-1505 খ্রিষ্টাব্দ ) বিজয়নগরে রাজত্ব করে শালুব বংশ । 1505-1565 খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তুলুব বংশীয় নরপতিরা বিজয়নগর রাজ্য শাসন করেন । এই রাজবংশের রাজত্বকালে শেষপর্বেই সম্মিলিত মুসলিম শক্তির আক্রমণে ( তালিকোটার যুদ্ধ , 1556 খ্রিষ্টাব্দে ) বিজয়নগর নগরী , এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় ।

🔹সমৃদ্ধ বিজয়নগর রাজ্য ধ্বংস হয় তালিকোটার যুদ্ধের মাধ্যমে । 1565 খ্রিষ্টাব্দের 23 জানুয়ারি বিজয়নগর রাজ্যের সাথে বিজাপুর , গােলকুণ্ডা , আহম্মদনগর ও বিদর এই চার মুসলিম রাজ্যের সম্মিলিত শক্তির সাংঘাতিক যুদ্ধই ইতিহাসে তালিকোটার যুদ্ধ নামে পরিচিত । এই যুদ্ধের সময় বিজয়নগরে রাজত্ব করতেন তুলুব বংশীয় রাজা সদাশিব রায় । তার প্রধানমন্ত্রী রাম রায়ের অদূরদর্শিতার কারণেই , বাহমনি রাজ্য ভেঙে তৈরি পাঁচটি মুসলিম রাজ্যের মধ্যে বেরার বাদে বাকি চারটি রাজ্যই সাময়িকভাবে অন্তর্দন্দ্ব ভুলে সম্মিলিতভাবে বিজয়নগর আক্রমণ করে । বিজয়নগরের পতন ঘটলে আহম্মদনগরের সুলতান নিজের হাতে বন্দী রাম রায়ের শিরচ্ছেদ করেন ।

🔹হিন্দু রাজ্য বিজয়নগরের সাথে যুদ্ধের পিছনে শুধু ধর্মীয় কারণ নয় , রায়চুর দোয়াব , ও কৃষ্ণা – গােদাবরী বদ্বীপ – এই উর্বর শস্যসমৃদ্ধ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার একটি বড়াে কারণ ছিল ।

🔹এরপর অরবিডু বংশের রাজারা এখানে রাজত্ব করেন । তবে ধ্বংস প্রাপ্ত বিজয়নগরের পরিবর্তে তারা রাজধানী স্থাপন করেন চন্দ্রাগিরিতে ।

🔹হরিহর – বুক্কা প্রতিষ্ঠিত সঙ্গম বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন দ্বিতীয় দেবরায় । তার আমলে পারস্যের রাজদূত আব্দুর রজ্জাক বিজয়নগরে আসেন ।

🔹বিজয়নগর রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন তুলুব বংশীয় রাজা কৃষ্ণদেব রায় ( 1509-1529 খ্রিষ্টাব্দ ) । তিনি উড়িষ্যার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে উদয়গিরি ও কোন্ডবিডু অধিকার করেন । বিজাপুরের সুলতানের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেন রায়চুর দোয়াব । এমনকি সাময়িকভাবে তিনি বিজাপুর দখলও করেছিলেন । গুলবর্গার দুর্গও তিনি ধ্বংস করেন ।

🔹পর্তুগিজ পর্যটক পাএস নুনিজ তার রাজত্বকালে বিজয়নগরে আসেন । পর্তুগিজদের সাথে কৃষ্ণদেব রায়ের সুসম্পর্ক ছিল । পর্তুগিজ গভর্নর আলবুকার্ক – কে তিনি ভাটকল – এ দুর্গ নির্মাণের অনুমতি দেন ।

🔹সাহিত্য অনুরাগী কৃষ্ণদেব ‘ আমুক্তমাল্যদ ’ নামে রাজনীতি বিষয়ক তথ্যপূর্ণ একটি গ্রন্থ রচনা করেন তেলুগু ভাষায় । ‘ অষ্টদিগ‌্গজ ’ নামে পরিচিত আটজন তেলুগু কবি তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page