মেসােপটেমীয় – সুমেরীয় সভ্যতা

💠 মেসােপটেমীয় – সুমেরীয় সভ্যতা : –

● সুমেরীয়রাই মূলত মেসােপটেমীয় সভ্যতার ভিত্তি গড়ে তােলে । সুমেরীয়দের আদি অবস্থান ছিল মেসােপটেমিয়ার উত্তর পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে । জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসােপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তােলে । তাদের নাম অনুসারে অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল । মেসােপটেমীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত সভ্যতাসমূহের মধ্যে সুমেরীয় সভ্যতা অন্যতম । এটি মূলত একটি কৃষিভিত্তিক সভ্যতা । সমাজ ব্যবস্থা ছিল শ্রেণীভিত্তিক । সুমেরীয় মন্দিরের পুরােহিত ছিলেন শাসক । সভ্যতায় তাদের বড় অবদান হলাে কিউনিফর্ম লিপি ও গণনা পদ্ধতির আবিষ্কার । সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য তারা আইনের কাঠামাে তৈরি করে । ভাস্কর্য , চিত্রশিল্প ও সাহিত্যের বিকাশে তাদের অবদান স্মরণযােগ্য ।


● সুমেরীয় সভ্যতার অবস্থান ও সময়কাল :
মেসােপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তােলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা । সুমেরী একটি জাতির নাম । তাদের আদি বাসস্থান ছিল মেসােপটেমিয়ার ( বর্তমান ইরাক ) উত্তর – পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে এদের একটি শাখা মেসােপটেমিয়ার দক্ষিণে বসতি গড়ে তােলে । তাদের নামানুসারে এ অঞ্চলটির নাম সুমেরীয় অঞ্চল । আর তাদের সভ্যতাকে বলা হয় সুমেরীয় সভ্যতা । সুমেরীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পূর্বেই সুমেরু নগর গড়ে তোলে ।


● সুমেরীয়দের সামাজিক অবস্থা :
সুমেরীয় সমাজের মানুষ বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল । যেমন –

অভিজাত সম্প্রদায় : উচ্চ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল শাসক , পুরােহিত , অভিজাত , সামন্ত প্রভু , বণিক , শিল্পমালিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ।

মধ্য শ্ৰেণী : মধ্য শ্রেণীতে অবস্থান ছিল চিকিৎসক , ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বাধীন ভূমিমালিক ( কৃষক ) শ্রমিক ।

নিম শ্রেণী : নিম্ন শ্রেণীর অধিবাসী ছিল দাস , ভূমিদাস ও সাধারণ শ্রমিক তথা সর্বসাধারণ ।


● ধর্ম :
সুমেরীয় ধর্মের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছিল । প্রথমত , সুমেরীয়রা বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিল । দ্বিতীয়ত , সুমেরীয় ধর্ম ছিল ইহজাগতিক ধর্ম । তৃতীয়ত , সুমেরীয় ধর্মে নৈতিকতা অনুপস্থিত ছিল তারা বৃষ্টি , বাতাস , পানি , উর্বরতা , প্লেগ রােগ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিকে দেবতা মনে করত । তাদের কেন্দ্রীয় ধর্মমন্দিরকে বলত ‘ জিওরাত ‘ আর ধর্মগুরুকে বলত ‘ পাতেজি ‘ ।


● প্রশাসনে অবদান :
২৮০০ খ্রি . পূর্বাব্দের আগে সুমেরীয় সভ্যতা ৩০ টি নগররাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল । নগররাষ্ট্রের প্রধানের পদবি ছিল পাতেশি । তিনি একাধারে পুরােহিত , সেনাপ্রধান , কৃষি বিভাগের প্রধান ছিলেন । ২৮০০ খ্রি . পূর্বাব্দে ডুঙ্গি ৩০ টি নগররাষ্ট্র নিয়ে প্রথম একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন ।


● লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার :
সুমেরীয়রা একটি ভিন্ন ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিল । মিশরীয়দের মতাে প্রথম দিকে তারা চিত্রলিপি ধরনের লেখা শুরু করে । দ্রুত ভাব প্রকাশের জন্য ধীরে ধীরে লিখন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে । এভাবেই মেসােপটেমিয়ায় একটি নতুন ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন ঘটে । কাদামাটির শ্লেটে নল – খাগড়ার কলম দিয়ে এক রকম কৌণিক রেখা ফুটিয়ে তােলা হতাে । খাঁজ কাটা এ চিহ্নগুলাে দেখতে অনেকটা ইংরেজি অক্ষর ” V ” এর মতাে । আবার কখনাে কখনাে তীরের মতাে ডিজাইন । প্রাচীন সুমেরীয়দের এ লিপির নাম দেয়া হয় কিউনিফর্ম যা মেসােপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে । সুমেরীয় ভাষায় ৫০০ এর বেশি কিলবাকার সংকেতিক চিহ্ন ছিল । এই লিপি বাম থেকে ডানে লেখা হতাে ।


● কৃষি :
সুমেরীয়দের আয়ের মূল উৎস ছিল কৃষি । তারা কৃষিকার্য পরিচালনার জন্যে উন্নত সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল । গম , যব , বার্লি , খেজুর , শাক – সবজি চাষ করত ।

● আইন :
সুশৃঙ্খল জীবন পরিচালনার জন্য সুমেরীয়গণ একটা আইনের কাঠামাে গড়ে তােলে । প্রাচীন সুমেরীয় সম্রাট ’ ডুঙ্গি ’ এ আইন তৈরি করেন । তাদের আইন ছিল খুব কঠোর । চোখের বদলে চোখ , দাঁতের বদলে দাঁত ও অঙ্গের পরিবর্তে অঙ্গ কর্তন ছিল আইনের বিধান ।

● ডুঙ্গির আইন :
পৃথিবীর প্রথম আইন সংকলন । এই আইন ছিল প্রতিশােধমূলক । পরবর্তী অনেক সভ্যতা এই আইন অনুসরণ করে ।

● ব্যবসা – বাণিজ্য :
সুমেরীয়গণ চারপাশের দেশগুলাের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল । ফিলিস্তিন , ফিনিশিয়া , ক্রীট , ইজিয়ান দ্বীপমালা , এশিয়া মাইনর এবং মিশরের সাথে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল । ভারতের সাথেও তাদের ব্যবসায়িক যােগাযােগ ছিল বলে ধারণা করা হয় ।

● বিজ্ঞানে তাদের অবদান :
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সুমেরীয়দের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তারা জলঘড়ি , চন্দ্র পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন । তারা জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চাও করতেন । গণিতশাস্ত্রেও তারা উল্লেখযােগ্য ভূমিকা রেখেছিল বলে জানা যায় । ৩৬০ ডিগ্রিতে বৃত্ত বিভাগ , ৬০ ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি চালু করে ।

● ভাস্কর্য ও স্থাপত্য :
সুমেরীয়গণ ভাস্কর্য নির্মাণেও ভূমিকা রেখেছেন । সিলমােহর নির্মাণ করে ও ধাতব দ্রব্য খােদাই করে তারা মূর্তি তৈরি করত । চিত্রশিল্পের বিকাশে তাদের দক্ষতা কম নয় । জিগুরাট নির্মাণে উন্নত স্থাপত্য রীতি ব্যবহার করে ।

Related posts:

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের জীবন কথা
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী : 2024
চন্দ্রযান-3 : চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণকারী প্রথম দেশ ভারত
GENERAL STUDIES : TEST-2
GENERAL STUDIES : 1
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স: 8ই সেপ্টেম্বর
'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
তপনের জীবনে তার ছোটো মাসির অবদান আলোচনা করো।
সমান্তরাল আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝ ?
আলোকরশ্মিগুচ্ছ বলতে কী বোঝায় ? এটি কয়প্রকার ও কী কী ?
একটি সাদা কাগজকে কীভাবে তুমি অস্বচ্ছ অথবা ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যমে পরিণত করবে ?
ঈষৎ স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অস্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বচ্ছ মাধ্যম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
অপ্রভ বস্তুও কি আলোর উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে?
বিন্দু আলোক - উৎস কীভাবে পাওয়া যেতে পারে ?
বিন্দু আলোক - উৎস ও বিস্তৃত আলোক - উৎস কী ?
অপ্রভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
স্বপ্নভ বস্তু কাকে বলে ? উদাহরণ দাও ।
দিনেরবেলা আমরা ঘরের ভিতর সবকিছু দেখতে পাই , কিন্তু রাত্রিবেলা আলোর অনুপস্থিতিতে কোনো জিনিসই দেখতে পা...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page